মায়া
মুস্তাফিজ শফি
অনেকগুলো সেকেন্ড, অনেকগুলো মিনিট, অনেকগুলো ঘণ্টা, কিংবা অনেকগুলো দিন, অনেকগুলো বছর কেটে যাবার পরও কি কেটেছে মায়া? মায়া কি কাটতে পারে? মায়া কি তবে কাটে কোনোকালে?
আজও টানে মাধবকুÐের মেঠোপথ, বাই-সাইকেলে চলা দুরন্ত দিন, বালিকাচত্বর, নয়নতারা। আজও টানে কীন ব্রিজ, চাঁদনীঘাট, হাকালুকি, মুড়িয়া, সোনাই, কুশিয়ারা। আজও টানে পাবলিক লাইবে্িররর সিঁড়ি, চারুকলার ঘুঘু ডাকা সোনালি দুপুর। বুকের গহীনে আজও টের পাই তার স্মৃতির ভায়োলিন। আজও টের পাই লেখায় লেখায়, আজও টের পাই বিষণœরেখায়। তার কথা বার বার ভেসে আসে হাওয়ায় হাওয়ায়।
প্রতিটা সকাল সেইসব সকালকে টেনে আনে, ভোরের সূর্যকে টেনে আনে। প্রতিটা দুপুর দোয়েলের শিসে আহŸান করে সেইসব দুপুরকে। আর প্রতিটা বিকেল দিগন্তরেখা বরাবর টানিয়ে রাখে তার ছবি। প্রতিটা সন্ধ্যা কিংবা রাত তবে বাদ যায় কিভাবে? আরেকটি ভোরের প্রতীক্ষায় জেগে জেগে তারাও গেয়ে যায় তার স্তবগীতি।
মাথার উপর জ্বল জ্বল করে জেগে ওঠলে পূর্ণিমার চাঁদ, হাওরের প্রান্তর থেকে হু হু করে ছুটে আসলে হাওয়াÑ সুরমা, সোনাই, কুশিয়ারার বুকে ওঠলে বৈশাখী ঝড়; প্রতিটা সেকেন্ড টেনে আনে তাকে, প্রতিটা মিনিট টেনে আনে তাকে, প্রতিটা মুহুর্ত, প্রতিটা ঘণ্টা টেনে আনে তাকে। তার জন্য দুচোখ মেলে জেগে থাকে দিন, জেগে থাকে নক্ষত্রের রাত।
মায়া তো মায়াই, যতো দূরে যায়, ততো তার দীর্ঘ হয় ছায়া।

