বরিশালসর্বশেষ

ভোলা ভ্রমণ…(ভ্রমণ গাইড)

প্রাকৃতিক শোভায় সুশোভিত বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাচীন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ ভোলা। বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলা। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর পর্যটনের ব্যাপক সমাহার রয়েছে জেলাটি জুড়ে। ভোলা জেলার নামকরণ নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদ। বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা। বাংলাদেশের দ্বীপের রানী ভোলা। কুইন আইল্যান্ড অব বাংলা। এ ব্র্যান্ড নামে পরিচিত দ্বীপ জেলা ভোলা। ধান-ইলিশ-দই সমৃদ্ধ প্রকৃতির রানী ভোলা জেলা। ভোলা জেলার ঘুইঙ্গার হাটের মিষ্টি ও ঘোষের দধির সুনাম সারাদেশ ব্যাপী। উত্তরে ল²ীপুর ও বরিশাল জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, প‚র্বে ল²ীপুর ও নোয়াখালী জেলা, মেঘনা নদী এবং শাহবাজপুর চ্যানেল, পশ্চিমে পটুয়াখালী ও বরিশাল জেলা এবং তেঁতুলিয়া নদী।
ভোলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি জেলা। এর প‚র্বের নাম দক্ষিণ শাহবাজপুর।
নোয়াখালী জেলার অধীনে ১৮৪৫ সালে ভোলা মহকুমা গঠিত হয়। দৌলতখানের আমানিয়া ছিল তখন এর প্রশাসনিক কেন্দ্র। ১৮৬৯ সালে মহকুমাটি বরিশালের সঙ্গে যুক্ত হয়। তখন দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন হাট নামক দুটি থানা এবং তালতলি, গাজীপুর ও তজমুদ্দিন নামক তিনটি আউটপোস্ট নিয়ে এই মহকুমা গঠিত হয়। ১৮৭৬ সালে দৌলতখান থেকে ভোলায় মহকুমা সদর স্থানান্তরিত হয়। ভোলা পৌরসভা গঠিত হয় ১৯২০ সালে। ১৯৮৪ সালে এটিকে জেলায় রূপান্তর করা হয়। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে চর ফ্যাশন উপজেলা সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে ছোট উপজেলা বোরহানউদ্দিন । মেঘনা, শাহবাজপুর চ্যানেল, তেঁতুলিয়া ও গণেশপুরা নদী এবং দারোগার খাল উলে­খযোগ্য।
ভোলা বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাচীন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ। এখানকার সংস্কৃতিতে রয়েছে মিশ্র প্রভাব। ভোলার মেঘনা তেতুলিয়ার তীর ঘেষে রয়েছে ছোট ছোট জেলে পল­ী। মাছ ধরা মৌসুমকে সামনে রেখে পল­ীর মহিলা ও শিশু কিশোররা পালাগান গেয়ে রং বেরংয়ের সুতা দিয়ে জাল বোনে। এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এসব জাল টানানো হয়। তখন বাড়িতে বাড়িতে চলে উৎসব।এখানে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলেও অনেক জমিদার বাড়ি সগৌরবে দাড়িয়ে আছে। যেমন- মানিকা মিয়া বাড়ি, কুতুবা মিয়া বাড়ি, দেউলা তালুকদার বাড়ি, পরান তালুকদার বাড়ি, রজনী করের বাড়ি ইত্যাদি। তবে দৌলতখানের জমিদার কালা রায়ের বাড়ি ছিল বিখ্যাত। তার প্রাসাদে হতো বাইজী ও ক্লাসিকাল ঢঙের ওস্তাদদের গান। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এ বাড়ি। এছাড়া জাগ্রত মাজার হচ্ছে হযরত উজির চান করনীর মাজার।ভোলার ঘুইঙ্গার হাটের মিষ্টি ও ঘোষের দধির সুনাম দীর্ঘকাল ধরে। অতিথি আপ্যায়ন ও জামাই আপ্যায়নে ভোলাবাসীর প্রথম পছন্দ এ দধি ও মিষ্টি। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে এ মিষ্টি ও দধি উপঢৌকন হিসেবে পাঠানো হয়।ভোলায় এককালে লবণ তৈরি হতো। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি খাল দিয়ে ভোলায় অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে লবণাক্ত পানি আটকিয়ে আগুনে জ্বাল দিয়ে লবণ তৈরি করা হতো। অধিকাংশ লবণ তখন তজুমদ্দিন, মির্জাকালুতে বিক্রি হতো। ব্রিটিশ সরকার লবণ কর বৃদ্ধি ও নানা বিধি-নিষেধ আরাপ করায় ১৯৩০ সালে ভোলায় লবণ আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৩০ সালের ১লা বৈশাখ পুলিশের গুলিতে ২জন মারাও যায়। পরে লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলেও সে স্মৃতি আজো অম্লান হয়ে আছে।ভোলা একটি গ্যাস সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ভোলা শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ডে ১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ আছে। এ গ্যাস দিয়ে ভোলার চাহিদা মিটিয়েও বাইরে পাঠানো যায়। এ গ্যাস দিয়ে ইতোমধ্যেই একটি সার কারখানা স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে ৩৪.৫ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।ভোলা মহিষের বাথানের জন্য বিখ্যাত। ভোলার বিভিন্ন চরে অর্ধশতাধিক মহিষের বাথান আছে। এসব বাথান থেকে প্রতিদিন শত শত কেজি দুধ উৎপাদিত হয় এবং এ দুধ থেকেই তৈরি হয় বিখ্যাত মহিষের দধি, পনির ও ঘি। এসব ভোলার বাইরে পাঠানো হয় বিক্রির জন্য।
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা ছিল পর্তুগীজ দস্যুদের দখলে। পরে এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজন বসতি স্থাপন করে। এখানে কান লম্বা, কেশর ভরা বিখ্যাত জাতের কুকুর ছিল। এখন বিলুপ্ত প্রায়। এখানে পর্তুগীজের তৈরি করা প্যাগোডার ধ্বংসাবশেষ রয়ে গেছে।এখানে গ্রামাঞ্চলে দাড়িয়াপাল­া, ফুটবল, কাবাডি, হাডুডু খেলার প্রচলন ছিল। এখনও এসব খেলা হয়। ভোলার কলঘাট এলাকায় একসময় স্টিমার ঘাট ছিল। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন এটি শুধু স্মৃতি।দেশের দক্ষিণে বঙ্গপোসাগর এবং দেশের সর্ব বৃহৎ নদী মেঘনার কুল ঘেসে অবস্থিত একটি জেলা। যার সাথে কোনো জেলার সড়ক যোগাযোগ পথ নেই। প্রশ্ন উঠতে পারে “তাহলে ভোলা কি চর ?” না, ভোলা কোন চর নয়।
দেশের সর্ব বৃহৎ দ্বীপ ভোলা এবং শুধু দ্বীপ নয় ভোলা দেশের সুসজ্জিত একটি জেলা। ভোলা দেশের একমাত্র জেলা যে জেলার কোনো আঞ্চলিক ভাষা নেই। ভোলার মানুষ সব ধরনের ভাষায় সহজেই কথা বলতে পারে। ভোলা’ই দেশের একমাত্র জেলা যে জেলার মানুষ সবচেয়ে অতিথি পরায়ণ। দেশের সিংহ ভাগ ইলিশের চাহিদা মেটাতে ভোলা থেকেই সরবরাহ করা হয় রুপালি ইলিশ,জাতীয় গ্রিডের ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ভোলা থেকেই। গ্রিডে নতুন সরবরাহ ২২৫ মেগাওয়াট শক্তি সম্পন্ন বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে ভোলায়। আছে দেশের ১২ তম সরকারি পলিটেকনিক ভোলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট।দক্ষিণ বাঙলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীট ভোলা সরকারি কলেজ। দেশের প্রায় অর্ধ ভাগ গ্যাস সরবরাহ করা হয় ভোলা থেকে। ভোলার বিখ্যাত মহিষের দুধের টক দধি বিখ্যাত। সুপারি এবং মিষ্টির জন্য বিখ্যাত ভোলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য “কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ”খেতাবটি এই জেলার দখলেই।দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ার ভোলার দ্বীপে। নদী পথে শান্তির বাহন বিলাশবহুল লঞ্চ গুলো ভোলার মানুষের গর্ব।

ভোলায় রয়েছে বেশকিছু দৃষ্টিনন্দন স্থান। বিভিন্ন চর ও দ্বীপ ভ্রমণের জন্যে ভোলা পর্যটকের জন্যে পছন্দের গন্তব্য।

চর মনপুরা
মনপুরার প্রধান আকর্ষণ হলো হাজার হাজার একরের ম্যানগ্রোভ বন। দিগন্ত জোড়া গাছের সারি মনপুরাকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। শীত মৌসুমে মনপুরাতে গেলে আপনি দেখতে পাবেন বাহারি রকমের অতিথি পাখি এবং তাদের কলকাকলিতে চারিপাশ যেন মুখরিত। সেখানে আরও দেখা মিলে হরিণের । হরিণের পালের ছোটাছুটির দৃশ্য দেখতে কার না মন চায় বলুন? সুবিশাল নদীর ওপর জেলে নৌকাসহ ছোট-বড় অসংখ্য নৌযানের সঙ্গে সাক্ষাত হয় সেখানে। মাঝে মাঝে মহিষের পালের সঙ্গেও দেখা হয়ে যায়। সরকারী স‚ত্র মতে বিগত এক দশক আগে চর মনপুরায় বনায়ন কর্মস‚চী হাতে নেয়া হয়, যা থেকে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানে পরিণত হয়। এখানে প্রতিবছর ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণপ্রসাদ মেলা বসে। মনপুরার ইলিশও নাকি খুবই সুস্বাদু।
বিগত এক দশক আগে চর মনপুরায় বন্য়ন কর্মস‚চি হাতে নেয়া হয়, যা থেকে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানে পরিনত হয় । এখানে প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণপ্রসাদ মেলা বসে । এছাড়া মনপুরার বিভিন্ন বনে হরিণ দেখথতে পাওয়া যায় । আর মনপুরার ইলিশ খুবি সুস্বাদু।
মনপুরা দ্বীপ হচ্ছে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর এলাকার উত্তরদিকে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি দ্বীপ। এটি ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় কিছুটা অংশ জুড়ে অবস্থিত।
প্রাকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভ‚মি মনপুরা হচ্ছে ভোলা দ্বীপ থেকে প্রায় ৮০ কিঃ মিঃ দুরত্বে সাগরের বুকে নয়নাভিরাম আরেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। মনগাজী নামে এখানকার এক লোক একদা বাঘের আক্রমনে নিহত হন। তার নামানুসারে মনপুরা নাম করন করা হয়। বাংলাদেশের বৃহওম দ্বীপ ভোলা জেলার ম‚ল ভ‚খÐ থেকে বিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা ভ‚মি রূপালী দ্বীপ মনপুরা। চতুর্দিকে মেঘনা নদীবেষ্টিত সবুজ-শ্যামল ঘেরা মনপুরা। সুবিশাল নদী , চতুর্দিকে বেড়ীবাঁধ, ধানের ক্ষেত, বিশাল ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগানে সমৃদ্ধ।
বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনার মোহনায় ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মনপুরা উপজেলায় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। মিয়া জমিরশাহ’র স্মৃতি বিজড়িত মনপুরা দ্বীপ অতি প্রাচীন। একসময় এ দ্বীপে পর্তুগীজদের আস্তানা ছিল। তারই নিদর্শন হিসেবে দেখতে পাওয়া যায় লম্বা লোমওয়ালা কুকুর।
বাংলাদেশের বৃহওম দ্বীপ ভোলা জেলার মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। মেঘনার কোল ঘেসে জেগে ওঠা তিন দিকে মেঘনাআর একদিকে বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ সাজে সজ্জিত লীলাভ‚মি মনপুরা। ভোলা জেলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ পুর্ব দিকে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেষে মেঘনার মোহনায় চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মনপুরা উপজেলা। মনপুরা সদর থেকে দুই কিলোমিটার উত্তর-প‚র্ব পাশে গড়ে উঠেছে মনপুরা ফিশারিজ লিঃ।
ছোট বড় ১০টি চর ও বনবিভাগের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সবুজ বিপ্লব। মাইলের পর মাইল সবুজ বৃক্ষরাজি বিশাল মনপুরাকে সাজিয়েছে সবুজের সমারোহে। শীত মৌসুমে শত শত পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে।

মনপুরা ফিশারিজ লিমিটেড
এটি স্থানীয় ফার্ম হাউজ ও পর্যটন অবকাশযাপন কেন্দ্রটির চিত্রা হরিণ, ডেইরী ফার্ম, পুকুর, বাগান ও নারিকেল গাছের সারিসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা ভোলার অন্যতম প্রধান একটি পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

মনপুরা ল্যান্ডিং স্টেশন
মনপুরার প্রধান শহরের প্রায় ৫ শত গজ পশ্চিমে মেঘনা নদীর কিনারায় নির্মিত হয় ল্যান্ডিং। মনপুরাবাসী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন ল্যান্ডিং স্টেশনকে। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী বিনোদন কেনদ্র হিসেবে এখানে ঘুড়তে আসে। পড়ন্ত বিকেলে এখানকার আড্ডায় পর্যটনের একটি উপাদান হিসেবে বেছে নিয়েছেন স‚র্য অস্ত যাওয়ার অপরুপ দৃশ্য।

চর কুকরি মুকরি
নামটা শুনলেই কেমন যেন অদ্ভুত একটা ভাব চলে আসে। অনেকেই এ চরটিকে দ্বীপকন্যা হিসেবেও আখ্যায়িত করে থাকেন। ভোলা জেলার অন্যতম সৌন্দর্যম-িত স্থানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। সাগর, ম্যানগ্রোভ বন, বন্যপ্রাণী সব মিলিয়ে যেন এক ভিন্নতার ছড়াছড়ি চরটিতে। স্থানীয়দের ধারণা আজ থেকে প্রায় চারশ’, পাঁচশ’ বছর প‚র্বে এ দ্বীপটির আবির্ভাব। বিগত কয়েক বছর ধরে প্রশাসন স্থানটিতে বনায়ন কর্মস‚চীর আওতায় এনে প্রচুর বৃক্ষরোপণ করে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলে। রয়েছে সুবিশাল বালুচর। মেঘনা নদীর এমন ঢেউ যেন আপনি সেখানে দাঁড়িয়ে অনায়াশে সাগর সৈকতে অবস্থান করছেন বলে মনে হতে পারে। প্রকৃতির অপরূপ এক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে স্থানটিতে।

কুকরি-মুকরি হচ্ছে বাংলাদেশের, ভোলা জেলায় অবস্থিত একটি দ্বীপ (চর)। এটি ভোলা জেলার সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত। স্থানীয়রা এই দ্বীপ বা চরকে ‘দ্বীপকন্যা’ নামে ডাকে। ভোলা জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা চরটির নাম চর কুকরি-মুকরি। কুকরি-মুকরি ইউনিয়নটি বাবুগঞ্জ, নবীনগর, রসুলপুর, আমিনপুর, শাহবাজপুর, মুসলিমপাড়া, চর পাতিলা ও শরীফপাড়া নিয়ে গঠিত। ওলন্দাজ-পর্তুগিজদের অভয়ারণ্য বলে পরিচিত চর কুকরি-মুকরিতে প্রায়ই দেশি-বিদেশি পর্যটক আর ভ্রমণপিপাসুদের সমাগম হয়।
বিগত এক দশক আগে চর কুকরি মুকরিতে বন্য়ন কর্মস‚চি হাতে নেয়া হয়, যা থেকে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানে পরিনত হয় ।। এছাড়া চর কুকরি মুকরি বিভিন্ন বনে হরিণ দেখথতে পাওয়া যায় । এখানে নারিকের বাগান রয়েছে যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায় । এখানে মেঘনা নদীর ঢেউ এমন রূপ পায় যা দেখলে মনে হবে আপনি সাগরের কোন সৈকতে অবস্থান করছেন । এখানে আছে বালু চর । এখানে আসলে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারবেননা প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করবে ।
চর কুকরি-মুকরি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য বা চর কুকরি-মুকরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহওম দ্বীপ ভোলা জেলায় অবস্থিত একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং বন্যপ্রাণের অভয়ারণ্য। ভোলা শহর থেকে এর দ‚রত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। বঙ্গোপসাগরের উপকন্ঠে মেঘনাও তেতুলিয়া নদীর মোহনায় কয়েকশ বছর আগে জেগে ওঠা চর কুকরি-মুকরিতে এই বনভ‚মির অবস্থান। এ বনে রয়েছে ১৫ হাজারেরও বেশি হরিণ। এ ছাড়া রয়েছে অতিথি পাখি, লাল কাঁকড়া, বুনো মহিষ, বানর, বনবিড়াল, উদবিড়াল, শেয়াল, বনমোরগসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী।

ভোলা জেলা শহর থেকে সড়ক পথে চরফ্যাশন উপজেলা সদরের দ‚রত্ব ৭৩ কিলোমিটার। চরফ্যাশন থানা সদর থেকে কচ্ছপিয়া পর্যন্ত ২৫ কিঃমিঃ সড়ক পথে ভ্রমণ করে, নদী পথে আরো ১০/১৫ কিলোমিটার ভ্রমণ করে পৌঁছানো যায় চরকুকরীমুকরীতে। ভোলা জেলা সদর থেকে নদী পথে এ দ্বীপে পৌঁছাতে বুড়াগৌরাঙ্গ, শাহাবাজপুর, তেতুলিয়া, মেঘনা এবং সাগর মোহনা অতিক্রম করতে হয়। আর চরফ্যাশনের ম‚ল ভ‚-খন্ড থেকে দ্বীপে পৌছতে কচ্ছপিয়া থেকে বুড়াগৌড়াঙ্গ এবং মেঘনা অতিক্রম করতে হয় ১০/১৫ কিঃ মিঃ। শীত মৌশুমে মেঘনা অত্রিক্রম করা সহজ হলেও বর্ষায় নদী থাকে উতলা, তরঙ্গবিক্ষুদ্ধ। তখন অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া নৌকা ট্রলারে মেঘনা অতিক্রম করে কুকরী দ্বীপে পা রাখার দ‚ঃস্বপ্নও কেউ দেখে না। প্রতিদিন দুপুর ১২.৩০টা এবং বিকাল ৪.০০ টায় কচ্ছপিয়া থেকে ট্রলার নির্ভর যাত্রীরা মেঘনা অতিক্রম করে এ দ্বীপে পৌছায়। এছাড়া দ্বীপের সাথে যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা নেই। ভ্রমণবিলাসী পর্যটকরা এ দ্বীপে আসে স্পীড বোট অথবা ভাড়া করা যাত্রীবাহি লঞ্চ নিয়ে । কুকরী থেকে ঢালচরের দ‚রত্ব ১০ কিঃমিঃ। দুই দ্বীপের মধ্যে বহমান মেঘনা । কুকরী থেকে চরপাতিলার দ‚রত্ব ৮ কিঃ মিঃ । মধ্যে বহমান বুড়াগৌড়াঙ্গ নদী। কুকরী থেকে ঢালচর ও পাতিলার যোগাযোগ হলো ইঞ্জিন চালিত নৌকা। তবে, ঢালচর থেকে কালাইয়া কুকরী থেকে লালমোহন পর্যন্ত যাত্রীবাহি লঞ্চ যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে।

ঢাল চর
বিগত এক দশক আগে ঢাল চর বন্য়ন কর্মস‚চি হাতে নেয়া হয়, যা থেকে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানে পরিনত হয় ।। এছাড়া ঢাল চর বিভিন্ন বনে হরিণ দেখথতে পাওয়া যায় । ঢাল চরের দক্ষিণ দিক বঙ্গোপসাগরের সাথে মিশে একটি সৈইকতের সৃষ্টী হয়েছে। আর এই স্থানটির নাম হল তারুয়া । ইতোমধ্যে তারুয়া স্থানটি অনেকের মনোযোগ আকর্ষণ করে নিয়েছে । এখানকার কেওড়া বাগানটি এর সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে । এখানে মেঘনা নদীর ঢেউ এমন রূপ পায় যা দেখলে মনে হবে আপনি সাগরের কোন সৈকতে অবস্থান করছেন ।
তারুয়া সমুদ্র সৈকত

তারুয়া সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় অবস্থিত একটি সমুদ্র সৈকত। জেলা সদর থেকে দেড়শ কিলোমিটার দ‚রে তারুয়া সমুদ্র সৈকতের অবস্থান। একশত পয়ত্রিশ কিলোমিটার পাকা সড়কের পর পনের কিলোমিটার নৌ-পথ পেরিয়ে সেখানে যেতে হয়।
তারুয়া সমুদ্র সৈকতে পর্যটকরা একই সঙ্গে উপভোগ করতে পারেন বিশাল সমুদ্রের বিস্তীর্ণ জলরাশি, নানা ধরনের পাখিদের কল-কাকলি, বালুকাময় মরুপথ আর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ছায়াঘন মনকাড়া নিবিঢ় পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ, বৈচিত্রময় প্রাণী আর সাগরের উত্তাল গর্জন। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে দ্বীপটিকে সাজিয়ে তুলেছেন। বর্তমানে তরুয়া দ্বীপটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ার
জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ার বাংলাদেশের ভোলা জেলায় অবস্থিত একটি দর্শনীয় স্থান। ম‚লত পর্যটকদের জন্য নির্মিত এটি একটি ওয়াচ টাওয়ার। এখান থেকে আশেপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়। এটি উপমহাদেশের সবচেয়ে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার। ভোলা জেলা শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দ‚রে বঙ্গোপসাগরের উপক‚ল ঘেঁষে উপজেলা শহর চরফ্যাশনে ওয়াচ টাওয়ারটি অবস্থিত। মাটির ৭৫ ফুট নিচ থেকে ঢালাই-পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর সম্প‚র্ণ ইস্পাত নির্মিত এই টাওয়ার ৮ মাত্রার ভ‚মিকম্প সহ্য করতে পারে। ভ‚মির উপর থেকে টাওয়ারের ওপরে অবস্থিত গম্ভুজ আকৃতির ওয়াচ পয়েন্ট পর্যন্ত চারদিকে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর রয়েছে ৫ মিলিমিটার ব্যাসের স্বচ্ছ কাঁচ। এর চ‚ড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি রয়েছে ক্যাপসুল লিফট। টাওয়ার চ‚ড়ায় স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতার বাইনোকুলার। এর সাহায্যে পর্যটকরা দ‚রবর্তী স্থান দেখতে পারবেন।

তুলাতলী পর্যটন কেন্দ্র
দ্বীপ জেলা ভোলার প্রান কেন্দ্র এই মেঘনার তীর, মেঘনার তীরে গড়ে ওঠা তুলাতলি বাজারকে কেন্দ্র করে নামকরন করা হয়েছে তুলাতলি টুরিষ্ট স্পট। বিশাল নদী আর তার জল আপনাকে কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়ে যাবে অন্যজগতে। ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলী বেড়িবাঁধ ও মেঘনায় জেগে ওঠা নতুন চরে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের উপছে পড়া ভিড়। বন্ধের দিন ছাড়াও সেখানে প্রতিদিন বাড়ছে মানুষের সমাগম। ভোলা শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দ‚রে মেঘনার সিসি ব্লক এলাকায় এটির অবস্থান। বেশ কিছুদিন আগে সেখানে মেঘনার বুক চিরে নতুন একটি চর জেগে ওঠে। এরপর থেকেই নদী ও চরের সৌন্দর্য দেখতে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

স্বাধীনতা জাদুঘর
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে ভোলার বাংলাবাজারে স্থাপিত হয়েছে স্বাধীনতা জাদুঘর। জাদুঘরটির একদিকে রয়েছে গবেষণাগার। অন্যদিকে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে রয়েছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের তথ্য। এখানে ভাষা অন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা দেখতে ও জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। এছাড়া সেখানে একটি অংশে বাঙালির লোকজ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে।প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসীর মামুনসহ বেশ কয়েকজন গবেষকের নিরলস পরিশ্রমে জাদুঘরটি অন্যতম সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে।

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর
ভোলা শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দ‚রে আলীনগর ইউনিয়নের মোস্তফা নগরে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগারটি অবস্থিত।
উলে­খ্য সাত বীরশ্রেষ্ঠ ও তিন ভাষাশহীদের জন্মস্থানে জাদুঘর ও লাইব্রেরি নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও বীরশ্রেষ্ঠদের ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এটি নির্মিত হয়।

সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্ক

সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্ক দ্বীপ জেলা ভোলা অন্তর্ভুক্ত একটি থানা লালমোহন। ভোলা জেলা থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দ‚রে লালমোহন সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্ক আর এই পার্কটি নির্মাণ করা হয় ২০১৬ সালে।
এই পার্ক ম‚লত আগে ছিল লালমোহন শাহবাজপুর সরকারি কলেজ এর এর পার্ক ভিতর আছে বিভিন্ন রকম সুবিধা।
মন মাতানো সব সৌন্দর্যে ভরপুর এই পার্ক। দক্ষিণ পাশে মনোরম পরিবেশে একটি প্রজেক্টর আছে। বাংলাদেশ এমন প্রজেক্টের দুটি রয়েছে। একটি ঢাকা শাহবাগ অবস্থিত আরেকটি এই সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্ক এ অবস্থিত যার মাধ্যমে পার্কের নানান সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়। রাতের আধারে মন মাতানো সৌরভ এবং সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এই প্রজেক্টরের মাধ্যমে সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্ক এর সব দৃশ্য ধারণ করা হয় এবং প্রদর্শন করা হয় দর্শকদের কাছে। এই পার্কের পশ্চিম পাশে রয়েছে নৌকা বানানো হয়েছে। এই পার্কের একমাত্র সৌন্দর্য হলো এই নৌকাটি কে নিয়ে নৌকার দক্ষিণ পাশে রয়েছে শিশুদের বিনোদনের জন্য সব কিছু। দর্শকদের জন্য রয়েছে থ্রিডি মুভি দেখার জন্য সিনেমা হল। এর উত্তর পাশে রয়েছে লালমোহন শাহবাজপুর সরকারি কলেজ। পার্কের প‚র্ব পাশে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স, খেলার মাঠ। দ্বীপ জেলা ভোলায় একমাত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্কই মন কাড়ার মতো পার্ক যেখানে ঘুরতে আসে অনেক দেশি-বিদেশি পর্যটক।

বোরহানউদ্দিন জমিদার বাড়ি
বোরহানউদ্দিন জমিদার বাড়ি বাংলাদেশ এর ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচরা ইউনিয়নে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি।
প্রায় দেড় শতাদিক বছর আগে এই জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা হলেন জমিদার বোরহানউদ্দিন চৌধুরী। তিনি ঐ সময়ে একজন প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন। বর্তমানে তার নামেই ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার নামকরণ করা হয়। যা ব্রিটিশরা করেছিল। এই জমিদারীর আওতায় প্রায় ২৭ মৌজা ছিল। এছাড়াও ভোলা ও বরিশালের কিছু অঞ্চল মিলে হাজার হাজার একর সম্পত্তি ছিল। এই জমিদাররা তাদের জমিদারী এলাকায় অনেক উন্নয়নম‚লক কাজ করেন। জমিদার বোরহানউদ্দিন চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে সামাজিক উন্নয়ন ও মসজিদ নির্মাণের জন্য অনেক জায়গা দান করে গেছেন। কিন্তু এইসব জায়গার অধিকাংশ এখন সাধারণ মানুষের ভোগ দখলে। জমিদার বোরহান উদ্দিন চৌধুরী ২১ বৈশাখ, ১৪১৯ বঙ্গাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
বসবাসের জন্য একটি দ্বিতল ভবন ও জমিদারী, বিচারকার্য এবং মুসাফিরদের থাকার জন্য তিনটি কাছারিঘর তৈরি করা হয়। এছাড়াও জমিদার বাড়ির প্রবেশপথে একটি মসজিদ তৈরি করা হয়।
অযতœ ও অবহেলার কারণে বর্তমানে জমিদার বাড়ির অনেক ঐতিহ্য এখন ধ্বংসের মুখে। শুধু মসজিদটি ব্যবহার করার কারণে এখনো প্রায় মোটামুটি ভালো অবস্থায় রয়েছে।

নিজাম-হাসিনা মসজিদ
দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ জেলা ভোলায় নির্মিত হয়েছে অত্যাধুনিক সৌন্দর্যম-িত নয়নজুড়ানো স্থাপনা নিজাম-হাসিনা মসজিদ। এটি নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশনের তত্ত¡াবধানে নির্মিত। ভোলা শহরের উকিল পাড়ায় প্রায় দেড় একর জমির ওপর এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬ শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে এ মসজিদটির শুভ উদ্বোধন করা হয়। নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় মার্বেলসহ বিভিন্ন দামি পাথর ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর কারুকাজে নির্মিত দুইতলাবিশিষ্ট এ মসজিদে রয়েছে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা অজুখানা ও নামাজের স্থান। ২০১০ সালের জুন মাস থেকে এ মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় ৫২ হাজার শ্রমিক মসজিদ নির্মাণের কাজে অংশ নেন। আর্কিটেক্ট ফোরামের ডিজাইনার কামরুজ্জামান লিটন মসজিদটির ডিজাইন করেন। মসজিদটির মিনারের উচ্চতা ১২০ ফুট এবং গম্বুজের উচ্চতা ৬০ ফুট। মসজিদভিত্তিক লাইব্রেরি ও হিফজখানার পাশাপাশি সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ক্যালিগ্রাফিসমৃদ্ধ ডিজাইন ও ফোয়ারাসহ চারপাশে সাজানো গোছানো ফুলের বাগান রয়েছে। দুই হাজার মুসলি­র ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ মসজিদে এসি ও আধুনিক অজুখানা ছাড়াও সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানে জেনারেটরের ব্যবস্থা রয়েছে। সুন্দর টাইলসসমৃদ্ধ ফ্লোরের জন্য রয়েছে দৃষ্টিনন্দন কার্পেটের ব্যবস্থা। উলে­খ্য যে, নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশনের আওতায় এ পর্যন্ত যেসব সমাজসেবাম‚লক কার্যক্রম পরিচালনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ১৫টি মসজিদ, এতিমখানা, চক্ষু হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম ও একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন।

দেউলি
বোরহানুদ্দিন উপজেলার একটি সপ্রাচীন জনপদ হল দেউলি। দেউলির গুরিন্দাবাড়িতে এর সাক্ষ্য বহন করে দাড়িয়ে আছে একটি প্রাচীন ভবন। এ ছাড়াও দেউলিতে একটি দিঘী রয়েছে, যার প্রতœতাত্তিক ম‚ল্য অপরিসীম ।

শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র
ভোলা জেলায় অবস্থিত একটি গ্যাসক্ষেত্র। এই গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে ভোলায় আবাসিক ব্যবহারের জন্যও গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া আরও যা দেখতে পারেন-
শিশু পার্ক, উপক‚লীয় সবুজ বেষ্টনী, খামার বাড়ি -নজরুল নগর, চরফ্যাশন, শাহবাজপুর মেঘনা পর্যটন কেন্দ্র, ফাতেমা খানম মসজিদ, দুদু মিয়ার মাজার সহ নানা কিছু।
এখানে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলেও অনেক জমিদার বাড়ি সগৌরবে দাড়িয়ে আছে। যেমন- মানিকা মিয়া বাড়ি, কুতুবা মিয়া বাড়ি, দেউলা তালুকদার বাড়ি, পরান তালুকদার বাড়ি, রজনী করের বাড়ি ইত্যাদি। তবে দৌলতখানের জমিদার কালা রায়ের বাড়ি ছিল বিখ্যাত।

কিভাবে যাবেন
ভোলা শহর ঢাকা থেকে নদী পথে দ‚রত্ব ১৯৫ কি.মি.। সড়কপথে বরিশাল হয়ে দ‚রত্ব ২৪৭ কি.মি. এবং লক্ষীপুর হয়ে দ‚রত্ব ২৪০কি.মি.।ভোলার সাথে অন্য কোন জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই।অন্য জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যাবস্থা সচল রাখার জন্য ভোলাবাসীকে লঞ্চ,স্পিড বোট এবং ফেরীর উপর নির্ভর করতে হয়। সদরঘাট থেকে ঢাকা টু ভোলা লঞ্চ যোগে ভোলা লঞ্চঘাট। অথবা গাবতলী বাসষ্টান্ড থেকে ঢাকা টু বরিশাল বাস য়োগে বরিশাল এসে বরিশাল সদরঘাট থেকে লঞ্চ অথবা স্প্রীডবোট যোগে ভেদুরিয়া ঘাট এসে সেই খান থেকে স্কুটার অথবা বাস অথবা অটো যোগে ভোলা সদর রোড এসে সেইখানথেকে ভোলা সদর উপজেলা আসতে হবে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ বরিশাল-ভোলা সেতুর কাজ শিগগিরই শুরু হবে।বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতু হবে বরিশাল-ভোলা সেতু। এই সেতুর দৈর্ঘ্য হবে আট কিলোমিটার। যা পদ্মা সেতুর চেয়ে দৈর্ঘ্যে বড়।

কোথায় থাকবেন
জেলায় আগত অতিথিদের জন্য জেলা সদরে ১টি সার্কিট হাউজ ও বাকি ৬টি উপজেলায় জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রনাধীন ৬টি বাংলো রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ব্যক্তি মালিকাধীন হোটেল সম‚হ । যেমন হোটেল জেড ইন্টারন্যাশানাল, হোটেল আহসান, হোটেল জাহান, হোটেল শীশ মহল, মোটেল প্রিন্স, হোটেল গোল্ডেন প্লাজা, মাহবুবা ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল আলমগীর, হোটেল রয়েল প্যালেস, হোটেল প্যারাডাইস, হোটেল আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল নিরালা, হোটেল টি হোসেন, হোটেল আফরোজ, হোটেল রেইনবো, হোটেল নুর জাহান এন্ড রেষ্টুরেন্ট, নাজমা এন্টারপ্রাইজ।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *