জেলার খবরনেত্রকোনা

প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে সব হারিয়ে নিঃস্ব ব্যবসায়ীর পরিবার


‎‎স্টাফ রিপোর্টার মহিউদ্দিন তালুকদার

‎গাজীপুরে মোঃ আমান উল্লাহ আমান নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৭ লাখ ৪০ হাজার  টাকা হাতিয়ে নিয়েছে  প্রতারক আবদুল্লাহ আল মামুন ও স্থানীয় কিছু প্রতারক চক্র । প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে ভুক্তভোগী মোঃ আমান উল্লাহ আমান ও তার পরিবার সব হারিয়ে পথে বসেছে।

মোঃ ‎আমান উল্লাহ আমান নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলা হরিপুর গ্রামের পিতা মৃত এ, কে, ফজলুল হকের ছেলে এবং আবদুল্লাহ আল মামুন পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার আশোয়া গ্রামের ফোরকান হোসেনের ছেলে। উভয়েই ব্যবসা করার সুবাধে বাসা নম্বর ৪৮৮ ও ৪৮৪ নীহারিকা আবাসিক এলাকা, বশির সড়ক, জয়দেবপুর রোড, গাজীপুরে বসবাস করেন।

‎অভিযোগ ও লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, মোঃ আমান উল্লাহ আমান একজন গার্মেন্টসের তৈরী পোষাক ক্রেতা-বিক্রতা।মোঃ আশরাফুলের সাথে আবদুল্লাহ আল মামুনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ফলে, গত ০৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখ মোঃ আমান উল্লাহ আমানের  নিকট হতে, পাঁচ লক্ষ  টাকা এবং ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ১২ লক্ষ ৪০ হাজার  টাকা গার্মেন্টস মালামাল ক্রয়ের জন্য হাওলাদ নেয়। পরে উক্ত মালামাল ক্রয় করতঃ শুধুমাত্র ১৪/১৫ হাজার  পিস সোয়েটার  মোঃ আমান উল্লাহ আমানের গােডাউনে রাখে এবং তার গোডাউনে আর জায়গা না থাকায় সেই সুযােগে বাকী মাল মােঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাসার মালিকের ছেলে সজল মিয়া’র গােডাউনে রাখে ‎এবং আমান উল্লাহ তা সরল বিশ্বাসে রাখতে দেয়।

‎উক্ত মালের ক্যাশ মেমো/চালান পরিকল্পিতভাবে মামুন তার নামে করে এবং তা ভুলক্রমে করা হয়েছে বলে জানায়। পরে মামুন তার  প্রতিষ্ঠানের একটি ক্যাশ মেমাে/চালান ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ অরিখে মোঃ আমান উল্লাহ আমানকে  প্রদান করে।

‎ক্রয়কৃত মালামাল ৭ দিন পরও বিক্রি না হওয়ায় মামুনকে টাকার জন্য চাপ দেওয়া হলে, পরবর্তীত ১০ই ফেব্রুয়ারি  ২০২৫ তারিখে ৩০০/- টাকার স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা করে এই বলে যে ২-৪ মাসের মধ্যে মালের লাভসহ সকল টাকা পরিশােধ করবে। এছাড়াও বিবাদী উক্ত টাকার বিপরীতে মোট ২টি চেক প্রদান করে (১টি মুল টাকার, ১টি প্রতি মালে ১০ টাকা লাভ ধরে) নিজ স্বাক্ষরিত ব্যবসায়ের লাইসেন্সের ফটোকপি (যা যাচাই করে ভুয়া ধরা পরে), আইডি কার্ড এর কপি,ব্যাংক কার্ড ইত্যাদি প্রদান করে।

‎এক পর্যায়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাহমুদুল হাসান(ভাই), সজল মিয়া মিয়া (বাসার মালিকের ছেলে),  মিজানুর রহমান (ম্যানেজার/সহকারী),, আরও ৩/৪  জন মিলে যোগসাজোসে উক্ত মালামাল চুরি করে অল্প অল্প করে সর্বশেষ ১৭,০০,০০০/- লাখ টাকার মালামাল বিক্রি করে দেয়।

বিষয়টি গােপন সুত্রে জানতে পেরে টাকা পরিশােধের জন্য বলিলে মামুন  বিষয়টি অস্বীকার করে এবং উক্ত চক্র আমান এর ভাই শাহীনুর আলমকে এই বলে হুমকি দেয় যে, ০৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর পুলিশের চাকুরি খেতে ১ মিনিটও লাগবে না এবং তার প্রাননাশের হুমকি দেয় যা জিডিতে উল্লেখ আছে ।
পরবর্তীতে ‎হটাৎ বিগত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে আমানের ভাই আশরাফুলের সাথে পৃথক লেনদেন এর ৫ লক্ষ ৫০  হাজার টাকার মধ্যে ৪ লক্ষ টাকা প্রদান করে এবং বাকী টাকা বাবদ তার ১টি মোবাইল ইচ্ছাকৃতভাবে জামানত রেখে যায় যা ২৩  সেপ্টেম্বর  ২০২৫ইং তারিখে বাসন থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ আছে। মামুন পরের দিন টাকা পরিশােধ না করে উক্ত চক্র হয়রানি/টাকা আত্মসাৎ করার জন্য উল্টো আমান উল্লাহ আমান ও তার  ভাইদের বিরুদ্ধ গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বাসন থানায়  একটি অভিযাগ দায়ের করে।  টাকা পরিশোধ করে মোবাইল ও কাগজপত্র না নেওয়ায় তা বাসন থানায় জমা করা হয় যা থানার জিডি নম্বর-৬২৫ এ উল্লেখ আছে। উক্ত প্রতারক চক্র আমানকে তার অফিসে যেতে দেয়না ও মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয়, এতে সে নিরাপস্তা হীনতায় ভূগছে। ‎এই বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মামুনকে জিঙ্গাসা করা হলে, তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন ও সকলের সন্মুখে ৪ লক্ষ টাকা পরিশোধ এর বিষয়টিও স্বীকার করেন।

‎পরবর্তীতে সাংবাদিকসহ থানায় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হলে উভয়ের কাগজপত্র পর্যালোচনা এবং সরেজমিনে তদন্ত করে নিম্লোক্ত বিষয়সমূহ অবগত হই; ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং তারিখে ঘটনার কোন আলামত পাওয়া যায়নি, ১০/১২টি সিসিটিভি থাকা সত্বেও তার ফুটেজ দেখাতে বললে মােঃ আবদুল্লাহ আল মামুন কোন সিসিটিভি ফুটেজ দিতে রাজি হয়নি বরং ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং তারিখে বাসা থেকে জোরপূর্বক মালামাল আনার কোন সিসিটিভি ফুটেজ দাখিল করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ২৩  সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং তারিখে বিবাদী ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে বাদীর গোডাউনে আসে এবং তা দিয়ে সুস্থভাবে বাদীর অফিস ত্যাগ করে (যা ভিডিও ক্লিপ দেখে সুস্পষ্ট হয়)। পরবর্তীতে বাদীর ভাই আশরাফুল ও বাদীর টাকা পরিশােধ না করে ২দিন/৩দিন পর পরিকল্পিতভাবে হাসপাতালে ভর্তি হয়। বাদীর ও তার ভাই আশরাফুল এর টাকা পরিশােধ করে মােবাইল ও কাগজ ফেরত না নেওয়ার ফলে তা স্বেচ্ছায় জিডি নম্বর ৬২৫ মুলে থানায় জমা করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা/উপস্থিত আলােচনা ও কাগজপত্রের পর্যালোচনা করে সর্বোপরি এই সিদ্ধান্ত হয় যে, বাদী মোঃ আমান উল্লাহ আমান এর অভিযোগটি সর্বাংশে সত্য এবং তার ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগটি মিথ্যা, বানােয়াট ও উদ্দেশ্যে প্রনােদিত।

উপরোক্ত সকল বিষয়ে, পুলিশ কমিশনার, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ বরাবর, আবদুল্লাহ আল মামুন গং এর বিরুদ্ধে চুরি করে মালামাল বিক্রয় ও পাওনা টাকা আদায়ের নিমিত্তে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমান উল্লাহ আমান অভিযোগ করিলে তা তদন্তাধীন আছে বলে জানায়।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *