সাহিত্য

জীবনানন্দ দাশ

এদেশের একটি সোনালি অতীত রয়েছে। স্বর্ণালি সেই অধ্যায়ে আলোকিত মানুষেরা বিচরণ করতেন। তাঁরা আপন প্রতিভার দ্যুতিতে নিজেদের জীবনকে যেমন উদ্ভাসিত করেছেন, তেমনি এদেশের মানুষকেও আলোকিত করার মহান ব্রতে থেকেছেন সচেষ্ট। এইসব মানুষের শেকড় সন্ধানে অন্যদিন কাজ করে যাচ্ছে। সেইঅšে¦ষণরেই প্রতিদফলন ঘটছে এই বিভাগে। অন্যদিন-এর এই বিভাগে আগে তুলে ধরা হয়েছে ৩৮ জন স্বনামধন্য সাহিত্যস্রষ্টাকে। ব্যক্তিগত ও সাহিত্যিক জীবনের তথ্যসহ তাদের জন্মভূমির পরিচয় ওঠে এসেছে। এই সংখ্যায় তুলে ধরা হলো রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের জীবন ও জন্মভূমিকে।

প্রকৃতি যেখানে ঐশ্বর্যশালিনী, চারদিকে চেয়ে দু’চোখ মুগ্ধ হয়; কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালি, ধানসিঁড়ি এরকম বহু নদী প্রবাহিত চারপাশে-সেই বরিশালে আমরা। লামচরি গ্রামে আরজ আলী মাতব্বরের আবাসভূমি দেখার পরে আবার ফিরে এসেছি বরিশাল শহরে।
এখন দুজন, আমি ও অন্যদিন-এর ফটোগ্রাফার বিশ্বজিৎ সরকার, চলেছি রিকশায় করে আম্বিয়া হাসপাতালের উদ্দেশে। অক্সফোর্ড মিশনের গা ছুঁয়ে যে পথটি চলে গেছে ব্রজমোহন কলেজ পর্যন্ত-সেই পথেই চলেছে রিকশাটি। অজগর সাপের মত আঁকাবাঁকা এই পথটি পাড়ি দিতে খারাপ লাগছে না।
বাংলা সাহিত্যের যে কবিকে ‘নির্জনতম কবি’ বলা হয়, বলা হয় ‘শুদ্ধতম কবি’, ‘প্রকৃতির কবি’, ‘রূপসী বাংলার কবি’, ‘হেমন্তের কবি’, সেই কবির স্মৃতিবিজরিত একটি বাড়িই আমাদের গন্তব্য। আসলে জীবনানন্দ দাশ নির্দিষ্ট গÐির কবি ছিলেন না বলেই নানা শিরোনামে তাকে ভূষিত করেছেন নানাজন।
একসময় আম্বিয়া হাসপাতালের পাশে রিকশা থামে। রিকশা থেকে নেমে ভাড়া চুকিয়ে আমরা কিছুটা হেঁটে পৌছি একটি বাড়ির সামনে। কালো লোহার গ্রিলের গেট। ওপাশে গাছের সার। আম, জামরুল, সুপারি, নারকেল…।
গেটের ওপরে একটি লোহার প্লেটে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘ধানসিড়ি’। আমার করোটিতে গুনগুনিয়ে উঠল জীবনানন্দের ধানসিড়িটির তীরে-এই বাংলায়/ হয়তো মানুষ নয় হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;/ হয়তো ভোরের কাক হয়ে এ কার্তিকের নবান্নের দেশে/ কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিবো এ কাঁঠাল-ছায়ায়…’। বরিশালের ধানসিড়ি নদী- আগে যার নাম ছিল ‘ধানসিদ্ধি’, এই নদীটির নাম অসংখ্যবার জীবনানন্দের কবিতায় আমরা দেখতে পাই। আর সেই নামে এই বাড়িটির নাম, এটি যে জীবনানন্দের স্মৃতিধন্য, এই কথাই যেন প্রকাশ করছে।
আমরা ধানসিড়ির ভেতরে প্রবেশ করি। ইট বিছানো পথে হেঁটে একটি ঘরের সামনে দাঁড়াই। উচ্চকণ্ঠে জানান দিই আমাদের আগমনবার্তা। কিছুক্ষণ পরে ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন এক প্রৌঢ়। আমরা তাকে নিজেদের পরিচয় দিই, আগমনের কারণটি বলি। তিনি আমাদের ঘরের ভেতরে আহŸান জানান। আমরা ঘরটিতে প্রবেশ করি। সোফায় বসি।
প্রৌঢ় ভদ্রলোক ‘নূরজাহান’ বলে ডাক দেন। কয়েক সেকেন্ড পরে এক মধ্যবয়সী মহিলা ঢোকেন ঘরটিতে। আমরা কথা বলি তাদের সঙ্গে। আলাপচারিতায় জানা যায় যে, আগে এই বাড়িটির নাম ছিল ‘সর্বানন্দ ভবন’। জীবনাননে ্দর ঠাকুরদা অর্থাৎ বাবা সত্যানন্দ দাশের বাবার নামে।
১৯০৭ সালে দাশ পরিবার এই বাড়িটি তৈরি করেন। তবে জীবনানন্দের জন্ম কিন্তু এখানে হয় নি। তিনি জন্মেছিলেন ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে পুরোনো বাড়িতে। এই বাড়িটি ছিল অশ্বিনী দত্তের বাড়ির উল্টো দিকে। এই তথ্য পাওয়া গেলেও আজও সেই বাড়িটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।
১৯৪৭ সালেই বরিশালের পাট চুকিয়ে জীবনানন্দ দাশ কোলকাতায় চলে যান। শেষ অংশীদার স্নেহলতা দাশ- জীবনানন্দের মাসি- তিনিও চলে যান ১৯৫৪ সালে। তারপর এই জমি নিলামে ওঠে। কিনে নেন আবদুর রাজ্জাক। নূরজাহান বেগমের বাবা। এখন নূরজাহান বেগমের স্বামী মো ঃ আবদুস সোবহান জীবনানন্দ নানা স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। যে ঘরে জীবনানন্দ স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন, সেই ঘরের দুটি পিলার বা স্তম্ভ সোবহান সাহেব লাগিয়েছেন বাড়ির বারান্দায়। অর্থাৎ যেহেতু বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল সেহেতু বসবাসের উপযোগী করার জন্যে নতুনভাবে বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। চেতনায ধ্বনিত হয় জীবনানন্দের কবিতার পঙক্তিমালা- ‘তারা ছিল/ তারা নেই/ তাদের প্রতীক/ হয়ে তবু কয়েকটি প্রাচীন গাছ দাঁড়িয়ে আছে’।
জীবনানন্দের স্মৃতি-বিজরিত স্তম্ভে হাত রাখি। যেন পাথর নয়, কবির স্পর্শ সঞ্চারিত হয় বোধে। জীবনানন্দের জীবন উঁকি দিয়ে যায় চেতনায়।
জীবনানন্দের বাবা সত্যানন্দ দশ, মা কুসুমকুমারী দাশ। কুসুমকুমারী রচিত ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথা না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’ এই পঙক্তিমালা তো বিখ্যাত।
জীবনান্দরা তিন ভাই বোন। আজ জীবনানন্দের স্ত্রী লাবণ্য দাশ, কন্যা মঞ্জুশ্রী দাশ, পুত্র সমরানন্দ দাশ, ভাই অলোকানন্দ, বোন সুচরিতা কেউ বেঁচে নেই। শুধু ভাইপো অমিতানন্দ দাশ বেঁচে আছেন।
জীবনানন্দ এই পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন ১৮৯৮ সালে, মতান্তরে ১৮৯৯ সালে। লেখাপড়ায় হাতেখড়ি আত্মজনদের কাছেই। প্রাথমিক পড়াশোনা করেছেন বাড়িতেই। ১৯০৮ সালে ভর্তি হন বরিশাল ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে। ১৯১৫ সালে ম্যাট্রিক পাস করে ব্রজমোহন কলেজে ভর্তি হন। ১৯১৭ ও ১৯১৯ সালে ব্রজমোহন কলেজ থেকে যথাক্রমে আইএ ও ইংরেজিতে বিএ (অনার্স) পাস করেন জীবনানন্দ। ১৯১৯ সালেই প্রথম ‘ব্র²বাদী’ পত্রিকায় কবির প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ছাপা হয়। ১৯২২ সালে এম এ (দ্বিতীয় শ্রেণিতে) পাস করেন। সিটি কলেজে ইংরেজি বিভাগের টিউটর হন। আর হ্যাঁ, ইংরেজির সাথে আইন পড়তেও শুরু করেছিলেন জীবনানন্দ, কিন্তু পরে তা আর অব্যাহত রাখেন নি। ১৯২৫ সালে ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় ছাপা হলো চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুতে লেখা ‘ দেশবন্ধুর প্রয়াণে’ কবিতাটি। পরে কবিতাটি ‘প্রবাসী’ ও ‘বিজলী’ পত্রিকাতেও ছাপা হয়েছে। ১৯২৭ সালে বের হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক’। ১৯২৮ সালে চাকরিচ্যুত হলেন সিটি কলেজ থেকে। ১৯২৯ সালে খুলনা বাগেরহাটের প্রফুল্লচন্দ্র কলেজে তিন মাস চাকরি করেন। পরে কোলকাতায় গিয়ে গৃহশিক্ষকতার কাজ করেন। ১৯২৯ সালের ডিসেম্বরে দিল্লির রামযশ কলেজে যোগ দিয়ে কাজ করেন চার মাস। ১৯৩০ সালে জীবনানন্দ বিয়ে করেন লাবণ্যকে। ঢাকা ব্রা²সমাজ মন্দিরে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের পর দিল্লিতে আর ফেরেন নি। পাঁচ বছর কর্মহীন থাকেন। তবে এরই মাঝে ইনসিওরেন্স কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন, ছোটভাইয়ের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করারও চেষ্টা করেছেন। ১৯৩১ সালে প্রথম সন্তান মঞ্জুশ্রীর জন্ম হয়। এই সময়ে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত ‘পরিচয়’ পত্রিকায় ‘ক্যাম্পে’ কবিতাটি ছাপা হলে বিতর্ক উঠল অশ্লীলতার। এ সময়ে গোপনে ছোট৯গল্পও লিখতে শুরু করেন জীবনানন্দ। ১৯৩২ সালে লিখেন দুটি উপন্যাস- ‘প্রেতিনীর রূপকথা’ ও ‘নিরূপম যাত্রা’। ১৯৩৪ সালের মাচ মাসে লিখেন ‘রূপসী বাংলা’র কবিতাগুলো। ১৯৩৫ সাল বরিশালের বিএম কলেজে ইংরেজির অধ্যাপক পদে যোগ দেন জীবনানন্দ। ১৯৩৬ সালে জন্ম হলো দ্বিতীয় সন্তান সমরানন্দের। একই বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ কাব্যগ্রন্থটি। এই কাব্যগ্রন্থটির হৃদয়গ্রাহী আলোচনা করেন বুদ্ধদেব বসু, ১৯৩৭ সালে। ১৯৩৮ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত ‘বাংলা কাব্য পরিচয়’-এ ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতাটি ঠাঁই পায় পরিমার্জন করে। একই বছর ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধটি ছাপ হয় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায়। ১৯৪২ সালে কবিতাভবনের এক পয়সায় একটি সিরিজে ‘বনলতা সেন’ প্রকাশিত হয়। এই সময়ে মৃত্যু ঘটে জীবনানন্দ দাশের পিতা সর্বানন্দ দাশের। ১৯৪৪ সালের জানুয়ারিতে ‘ কেন লিখি’ এই গদ্যটি লিখেন জীবনানন্দ, একটি সংকলনের জন্যে। একই বছরের জুলাই মাসে পুর্বাশা লিমিটেড থেকে প্রকাশিত হয় কাব্যগ্রন্থ ‘মহাপৃথিবী’। ১৯৪৬ সালে বরিশালের বিএম কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে কোলকাতায় যান জীবনানন্দ। ১৯৪৭ সালে যান একেবারে পাকাপাকিভাবে। বলাই বাহুল্য, পরিবারের সদস্যদের নিয়েই। সেই সময়ে হুমায়ূন কবিরের ‘স্বরাজ’ পত্রিকায় বিভাগীয় সম্পাদক হন জীবনানন্দ। তবে কয়েক মাসের বেশি কাজ করেন নি। ১৯৪৮ সালের মে-জুনে লিখেন দুটি উপন্যাস-‘সুতীর্থ’ এবং ‘মাল্যবান’। ওই বছরেরই ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় কাব্যগ্রন্থ ‘সাতটি তারার তিমির’। এ সময়ে জীবনানন্দের মা কুসুমকুমারী দেবীর মৃত্যু হয়। ১৯৪৯ সালে স্টেটস্ম্যান পত্রিকায় ছাপা হয় ইবহমধষর ঢ়ড়বঃৎু ঃড়ফধু. ১৯৫০ সালে ‘সমকালীন সাহিত্যকেন্দ্র’-এর মুখপত্র ‘দ্ব›দ্ব’র সম্পাদনা পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন জীবনানন্দ। ১৯৫২ সালে সিগনেট সংস্করণে প্রকাশিত হয় পরিবর্তিত ‘বনলতা সেন’। গ্রন্থটি শ্রেষ্ঠ বই হিসেবে পুরষ্কৃত হয় নিখিল বঙ্গ রবীন্দ্র সম্মেলন-এ। এই সময়ে বড়িষা কলেজে অধ্যাপনার কাজ পান জীবনানন্দ। তবে ১৯৫৩ সালের ফেব্রæয়ারিতে তিনি চাকরিচ্যুত হন। তারপরই হাওড়া গার্লস কলেজে ইংরেজি বিভাগের প্রধান হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলেন। ১৯৫৩ সালেই বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘আধুনিক বাংলা কবির সততাপ্রসূত অভিজ্ঞতা ও কল্পনাপ্রতিভার সন্তান। আর আমরা দেখতে পাই, জীবনানন্দ তাঁর আত্মগত জীবনোপলব্দির সঙ্গে কল্পনাপ্রতিভার সার্থক সম্মিলন ঘটাতে পেরেছিলেন। জীবনানন্দের কবিতায় আমরা লক্ষ করি চিত্রকল্প। বলা যায়, বাংলা কবিতায় তিনি কবিতার আদলে ছবি এঁকেছেন। যেমন ‘ডাইনীর মতো হাত তুলে-তুলে ভাঁট আঁশ শ্যাওড়ার বন/ বাতাসে কী কথা কয় বুঝি নাকো- বুঝি নাকো চিল কেন কাঁদে/ পৃথিবীর কোনো পথে দেখি নাই আমি হায় এমন বিজন/ শাদা পথ- সোঁদা পথ বাঁশের ঘোমটা মুখে বিধবার ছাঁদে/ চলে গেছে’ (২০/ রূপসী বাংলা)। অথবা ‘বুনো হাঁস পাখা মেলে- সাঁই অজস্র-অপার-/ রাত্রির কিনার দিয়ে তাহাদের ক্ষিপ্র ডানা ঝাড়া/ এঞ্জিনের মতো শব্দে; ছুটিতেছে- ছুটিতেছে তারা।’ (বুনো হাঁস/ বনলতা সেন)। আমরা এটাও অনুভব করি, এ ছবি ছবি নয়, রূপকের অধিক রূপক, চিত্রকল্পের অধিক চিত্রকল্প।
জীবনানন্দের কবিতায় একজন আধুনিক পাঠক বুঁদ হয়ে থাকেন। কেন না তাঁর কাব্যে রয়েছে অজস্র বিষ্ময়কর পঙক্তি। উদাহরণ হিসেবে কয়েকটির উল্লেখ করা যাক: ‘এইখানে শুয়ে আছে কিনা’, ‘যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের- মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা’, ‘ঘাসের ওপর দিয়ে ভেসে যায় সবুজ বাতাস’, ‘পাড়াগাঁর দু’পহর ভালোবাসি- রৌদ্রে যেন গন্ধ লেগে আছে…।
পাঠকদের মগ্নচৈতন্যে ধ্বনিত হয় জীবনানন্দের কবিতার পঙক্তিমালা। তার কবিতায় যে পৃথিবী রচিত হয়েছে সেই পৃথিবী আশাবাদী নয়, সে পৃথিবী এই বাস্তব পৃথিবীই, যেখানে আশা ও নিরাশা সমানভাবে সক্রিয়। তাঁর কবিতা পড়ে একটি বোধ কাজ করে আমাদের চেতনায়। জলের মতো ঘুরে ঘুরে সে কথা কয়। জীবনের পরিসমাপ্তিতেই সেই বোধের মৃত্যু ঘটে।
১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর, বৈকালিক ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে অন্যমনস্কভাবে ট্রামের নিচে চাপা পড়েন জীবনানন্দ, কোলকাতার রাসবিহারি এভিনিউতে। তাঁর পা ও পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়। তারপর হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান ২২ অক্টোবর, রাত সাড়ে ১১টায়।
মৃত্যু কী জীবনানন্দকে কেড়ে নিতে পেরেছে ? না, কবিতায আজও ভীষণভাবে জীবন্ত তিনি।
কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুহীন প্রাণের স্পন্দন টের পাওয়া যায় চিরকালের পাঠক-হৃদয়ে।

মোমিন রহমান

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *