ফিলিস্তিনে হত্যাযজ্ঞের দায় নিরব বিশ্ববাসীর
মুরিদ বারগুতি লিখেছিলেন—’নিরাশার কালে শুধু মনে রাখি—মৃত্যুর পরও এক জীবন আছে; ফলে কোনোই সমস্যা নেই আমার।/কিন্তু প্রশ্ন রাখি: হে খোদা, মৃত্যুর আগে কি কোনোই জীবন নেই?’
ইসরায়েল শান্তিচুক্তির পরও গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। সাহায্য সংস্থা ও চিকিৎসা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনমতে, গাজায় প্রতিদিন ১০ জনের বেশি শিশু এক বা একাধিক অঙ্গ হারিয়েছে। গত বছর ডিসেম্বরে জাতিসংঘ বলেছিল, গাজায় ‘বিশ্বে মাথাপিছু হিসেবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারানো শিশু’ রয়েছে। এসব শিশুর কারও পা নেই; কারও হাত কিংবা কারও দু’চোখ হারিয়েছে। গাজায় এ ধরনের অঙ্গ খুইয়েছে হাজার হাজার শিশু।
গত সপ্তাহে আলজাজিরায় গাজা নিয়ে হাদিল আওয়াদ একটি নিবন্ধ লিখেছেন, যেখানে শিশুহত্যার নির্মম ও হৃদয়বিদারক চিত্র উঠে এসেছে। ৩ বছর বয়সী হানানের দুই পা কেটে ফেলা হয়েছে। ১ বছর ৮ মাস বয়সী তার বোন মিস্কের এক পা বিচ্ছিন্ন করতে হয়েছে। হানান তার বয়সী অন্যান্য বাচ্চার পা বুঝতে এবং লক্ষ্য করতে পারত বলে জিজ্ঞাসা করত– কেন তার পা নেই! এই দৃশ্য পৃথিবীতে উন্মোচিত হওয়ার পরও বিশ্বনেতৃত্ব চুপ। সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা কতটা নির্দয় ও নিষ্ঠুরতায় পৌঁছে গেলে এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়!
পৃথিবীর হর্তাকর্তা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ ব্যাপারে স্রেফ নিন্দা জানিয়ে চুপ রয়েছে। আমাজনের মতো গভীর জঙ্গলে গিয়েও যে দেশটি মাতব্বরি করে, তারা যুদ্ধে সরাসরি ইন্ধন দিয়েই যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ইসরায়েলে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ সরবরাহের প্রকাশ্য প্রমাণ রয়েছে। তাদের জোগান দেওয়া ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েই হত্যা করা হচ্ছে শিশুদের।
ফিলিস্তিনি সমস্যা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘকালীন একটি ‘মানবিক সমস্যা’। মাঝে মাঝে ভাবি ফিলিস্তিনিরা কি মানব জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত? না কি আমরা মানব জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত? নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে তারা উদ্বাস্তু, অথচ দখলদার জারজ ইহুদি রাষ্ট্রটি যেন বিশ্বের সকল আইনের ঊর্ধ্বে; তাকে রুখতে পারে- এমন কোনো শক্তি বিশ্বে জন্মায় নি। তারা যা ইচ্ছে করতে পারে; সবকিছু করার তাদের অধিকার আছে; এমনকি পুরো ফিলিস্তিনি ভূ-খণ্ড থেকে সকল ফিলিস্তিনিকে হত্যার লাইসেন্সও তাদের আছে। এ কেমন বিশ্ব্য ব্যবস্থা! এ কেমন মানবতা!
হয়তো গতকালও শুয়ে শুয়ে ভেবেছি, আর না (যদিও আমার ভাবনার কোনো দাম নেই)! এভাবে আর ফিলিস্তিনি মানুষগুলোকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া আর না। বিবেকহীন বিশ্বের মুখে লাথি মেরে জারজ রাষ্ট্রটির কাছে সমস্ত কিছু ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্তত মানুষ হয়ে দু‘দিনের পৃথিবীতে একটু শান্তির নিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে ওরা। জীবনকে এত দুর্বিষহ যন্ত্রণার মধ্যে ঠেলে দিয়ে কী সুখ আমরা পেতে যাচ্ছি! আর জালিম ইসরায়েলিদের নিকট থেকে কি ক্ষমতালোভী অবিমৃশ্যকারী বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দ ফিলিস্তিনিদের মুক্তির কোনো বার্তা শোনাতে পারবে?
লেখক: রফিকুল ইসলাম (শুভ)

