জেলার খবরনেত্রকোনা

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবিতে দীর্ঘায়িত শাটডাউন ও পরীক্ষা বর্জনে ফুসে উঠেছে ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবক সমাজ

পলাশ পাল (প্রতিনিধি)নেত্রকোনা

ক্রমবর্ধমান শিক্ষকদের সাম্প্রতিক সময়ে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-গ্রেডও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সংক্রান্ত আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশের মত নেত্রকোনা জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ও বার্ষিক পরীক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মারাত্মক শিক্ষাহানির মুখে পড়েছে—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক সমাজ।

অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষকদের দাবি যদি ন্যায্য হয় সরকারকে জানানো স্বাভাবিক; তবে পরীক্ষা ও পাঠদান বন্ধ করে আন্দোলন করা কোনোভাবেই শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। বিশেষ করে বার্ষিক পরীক্ষার সময় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়া একটি দায়িত্বশীল শিক্ষকের আচরণ হতে পারে না।
অভিভাবক সমাজ অভিযোগ করে আরও জানায়, দীর্ঘদিন একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা অনেক শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন।

তাই অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো শিক্ষকদের নিয়মিত বদলি (রোটেশন) ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানান তারা। এতে বিদ্যালয়ে প্রভাব-অপ্রভাব ও কোচিং নির্ভরতা কমে শিক্ষার পরিবেশ আরও স্বচ্ছ হবে বলে তাদের বিশ্বাস।
অভিভাবক সমাজের প্রধান দাবি–দাওয়া
পাঠদান ও পরীক্ষা বন্ধ রেখে কোনো আন্দোলন নয়—শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক বদলি/রোটেশন ব্যবস্থা চালু করা, যাতে কোচিং বাণিজ্য ও বছরের পর বছর একই স্থানে থাকার অনিয়ম দূর হয়।
আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হলে জরুরি অনলাইন বা বিকল্প পাঠদান ব্যবস্থা চালু করা।
স্থগিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে নতুন তারিখ দ্রুত ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তি দূর করা।

বিদ্যালয়–অভিভাবক–প্রশাসনের সমন্বয় কমিটি সক্রিয় করা।
শিক্ষাহানি পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত ক্লাস বা বিশেষ পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ।
অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষকদের দাবি যদি যৌক্তিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি, তবে সেই সমাধান যেন কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।
তারা আশা প্রকাশ করেন—সরকার, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সমাধানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা স্বাভাবিক করবেন অন্যথায় সন্তান এর শিক্ষার স্বার্থে আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হব।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *