শহীদ ওসমান হাদির জানাজার দিনেই নেত্রকোণায় ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’-এর কার্যক্রম শুরু
নিজস্ব সংবাদদাতা, শুক্রবার (২০-১২-২০২৫ ইং)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ শনিবার বাদ জোহর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এ দিনেই নেত্রকোণায় শহীদ ওসমান হাদির স্বপ্নের ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেন নেত্রকোণা জেলার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া একদল ইনসাফের স্বপ্ন দেখা সারথীগণ।
‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’ হলো অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান অনুপ্রাণিত সাংস্কৃতিক সংগঠন। সংগঠনের লক্ষ্য হলো সমস্ত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা। নেত্রকোণায় ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের অফিস ঘরটি নেত্রকোণা জজ কোর্টের বিপরীত পাশে আজিম মার্কেটে অবস্থিত, যেখানে নতুন প্রজন্মের জন্য থাকছে হাজারও বই।
নেত্রকোণা জেলা ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’-এর মুখপাত্র জুলাই গণ-অভুত্থানে নেত্রকোণা জেলায় নেতৃত্ব দেয়া জনাব রফিকুল ইসলাশ শুভ বলেন, ভারত নয়, পাকিস্থান নয়, শুধুমাত্র বাংলাদেশপন্থীদের নিয়ে ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’ যাত্রা অব্যাহত থাকবে। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকবে জুলাই বিপ্লবের সাথে সংহতি রেখে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা। এর মধ্যে অন্যতম হলো, দেশব্যাপী গ্রাফিতি ও স্লোগান পুনর্লিখন কর্মসূচি, শহীদি সপ্তাহ পালন, দাবি আদায়ে অনশন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ছবি প্রদর্শনী, ভিডিও ডকুমেন্টেশন, শহীদি স্মৃতিকথা ও দ্রোহের গান কর্মসূচি। পাশাপাশি একটি দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসিত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে জনগণের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত হবে এবং শাসনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসন সংস্কার করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদিকে জান্নাতবাসী করুন।
নেত্রকোণা জেলা ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’-এর অন্যতম সদস্য জনাব রিপন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শহীদ ওসমান হাদি’র স্বপ্ন যেন নিভে না যায়, সে লক্ষ্যে নেত্রকোণায় ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’-প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিই, প্রাথমিকভাবে নেত্রকোণায় আমরা ৩১সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করি, এবং সর্বসম্মতিক্রমেজুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া জনাব রফিকুল ইসলাম শুভকে মুখপাত্র করে ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’-এর যাত্রা শুরু করি। তিনি আরও বলেন, উক্ত কালচারাল সেন্টারের যে কেউ সদস্য হতে পারবেন, তবে তার মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসিত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে জনগণের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত হবে এবং শাসনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসন সংস্কার করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার উদ্দেশ্য থাকতে হবে।
এখন থেকে প্রতিদিনই নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

