বাংলাদেশসর্বশেষ

ছুটি মাত্র একটি দিন!! আপনার বেড়ানো হোক এখানেই

এক দিনেই বেড়িয়ে আসুন

শনি থেকে বৃহস্পতিবার, নগর ব্যস্ততা আর কঠিন বাস্তবতার বিরুদ্ধে ঠিকে থাকার লড়াই ক্লান্ত হয়ে পড়েন সবাই। এ ক্লান্তি দূর করে পরের সপ্তাহের জন্য তৈরি হতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রামর। বিশ্রাম মানেই কি শুধু খাওয়া থাকা আর ঘুম ? খাওয়া আর ঘুমে শরীরের বিশ্রাম কিন্তু মনের বিশ্রামের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিনোদনের। যাকে বলা হয় রিক্রিয়েশন। আর বিনোদনের সবচেয়ে ভালো উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা বেড়ানো। মাঝে মাঝে বেড়াতে গেলে শুধু যে সৃজনশীলতা বাড়ে তাই নয় বরং পারিবারিক সম্পর্ক বা বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়। মিলিয়ে যায় মনের খেদ। পরিবারে সম্পর্কে যদি শিথিল হতে থাকে, যেই বন্ধুটির সাথে আপনার অনেক দিন ধরে অভিমান, তা দৃঢ় করতেবারাগ ভাঙানোর সময়টাও ছুটিতে। সংসার, চাকরি ও পড়ালেখার কারণে কাছের পরিবার পরিজন ও কাছের বন্ধুদের সাথেও দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ছুটিতে বন্ধুর সাথে সব দূরত্ব ঘুচিয়ে দিনগুলোকে বন্ধুত্বময় করে তুলুন।

ছুটি মাত্র একটি দিন
সরকারি চাকুরিজীবদের কিছুটা সুবিধা হলেও বেসরকারি চাকরি যারা করেন তারা সারা সপ্তাহ ব্যস্ততাকে দিয়ে ছুটি মাত্র একটি দিন। এই স্বল্প সময়ে বেড়ানোর উপযুক্ত স্থান কোথায় হতে পারে তা অনেকেরই জানা নেই। আবার জানা থাকলেও রয়েছে দ্বিধা-দ্বন্ধ। রাজধানী শহরের মধ্যে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান থাকলে আমরা আজ আপনাদের নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেব শহরের বাইরের কিছু দর্শনীয় স্থান সমূহের যেখানে সকালে রওনা হয়ে আবার বিকালেই ফিরতে পারবেন নিজ আবাসে।
নগর ব্যস্ততা যত বেড়েছে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে মানুষের ভ্রমণ পিপাসা। তাই সারা দেশের মতো ঢাকার আশেপাশেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য পর্যটন স্পট ও বিনোদন কেন্দ্র ও রিসোর্ট। তবে কৃত্রিম নয় আজ আমরা তুলে এনেছি প্রাকৃতিক ও ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধারণ করে এমন কিছু স্থানের খবরাখবর। বিনোদনও হলো, নিজের শেকড়ও চিনলেন, এক ঢিলে দুই পাখি!
চলুন জেনে নেই ঢাকা আশেপাশের এমন কয়েকটি জায়গা সম্পর্কেÑ

জাতীয় স্মৃতিসৌধ
ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের পাশে সাভারের নবীনগরে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণউৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রথম বিজয় দিবসে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর এর চারপাশ ঘিরে রয়েছে কৃত্রিম লেক। সৌধ চত্বরের আশপাশের পুরো এলাকটিই ছায়াঘেরা। জাতীয় স্মৃতিসৌধে ঢুকতে কোনো প্রবেশ মূল্য লাগে না। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। মোট ১০৮ একর উঁচু-নিচু টিলা আকৃতির জায়গার উপর সবুজ ঘাসের গালিচায় আবৃত দেশি-বিদেশি গাছের বাগান আর লাল ইটের রাস্তা সমৃদ্ধ এই সৌধটি ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে।
যাতায়াত ব্যবস্থা
ঢাকার গুলিস্তান ও গাবতলী থেকে নবীনগর, ধামরাই ও মানিকগঞ্জগামী যে-কোনো বাসে সাভারের নবীনগওে জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনেই নামা যায়।

গোলাপ গ্রাম
নদী পথ পার হয়ে ছোট্ট একটি গ্রাম। তবে গ্রাম হলেও পুরোটাই গোলাপের বাগান দিয়ে পরিপূর্ণ। এখানে গেলে আপনার মনে হবে যেন বিশাল একটি গোলাপের বাগানের ভেতর আপনি ঘুরছেন। সরব পথ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখবেন রাস্তার দুপাশ গোলাপের বাগান দিয়ে ঘেরা।
যাতায়াত : মিরপুর দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট থেকে সাহদুল্লাহপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে ৩০ মিনিট পরপর ইঞ্জিনচালিত বোট ছাড়ে। সাহদুল্লাহপুর যেতে যেতে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা লাগবে। সেখানে একেক জনের জন্য ২০-৩০টাকা করে নিবে। অথবা নিজেরা হাতে চালানো বোট নিতে পারেন,যেতে দেড় ঘণ্টার মতো লাগবে।
পানাম ও সোনারগাঁও এবং মেঘনার পার
পানাম সিটি ঢাকা থেকে একদমই আলাদা এবং অন্য রকম। পুরোনো বাড়িগুলো দেখে দেখেই দিন পার হয়ে যাবে। পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংস প্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি পানামনগর। ডড়ৎষফ গড়হঁসবহঃ ঋঁহফ ২০০৬ সালে পানামনগরকে বিশ্বের ধ্বংস প্রায় ১০০টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকার প্রকাশ করে। ঈসাখাঁ-ও আমলের বাংলার রাজধানী পানামনগর। এখানে কয়েক শতাব্দী পুরোনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভুঁইয়াদের ইতিহাসের সাতে সম্পর্কিত। ওখান থেকে কাছেই মেঘনা নদী। নদীর ওপারে গেলেই দেখবেন কাশফুলে ঘেরা বিস্তৃত মাঠ! চাইলে পানাম ঘোরা শেষে চলে যেতে পারবেন সোনারগাঁও ও লোকশিল্প জাদুঘর।
যাতায়াত: ঢাকা অদূরে ২৭ কি.মি দক্ষিণ-পূর্বে নারায়ণগঞ্জ-এর খুব কাছে সোনারগাঁতে অবস্থিত এই নগর। ঢাকা থেকে যাতায়াত ব্যবস্থাও সহজ। গুলিস্থান থেকে ‘মোগরপারা’ এর যে-কোনো বাসে (সোনারগাঁ পরিবহন) করে যাওয়া যায় ‘মোগরাপারা’, সেখান থেকে অটোরিকশাযোগে দশ-পনেরো মিনিটে যাওয়া যায় পানামনগরীতে।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জমিদারবাড়িগুলোর একটি। ঢাকা জেলা সদর থেকে পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত। মোট সাতটি স্থাপনা নিয়ে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। জমিদার বাড়ির পুরোটাই মনোরম পরিবেশে ঘেরা!
যাতায়াত : ঢাকার গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জ বা সরাসরি সাটুরিয়া যাওয়ার বাস পাওয়া যাবে। জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৬০-৭০ টাকা। সাটুরিয়া পৌঁছে সেখান থেকে রিকশা বা লোকাল সিএনজিতে করে জমিদার বাড়ি যাওয়া যাবে। জন প্রতি ভাড়া ১০ টাকা। বালিয়াটি জমিদার বাড়ি রোববার পূর্ণদিবস আর সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকে। অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও বন্ধ থাকে। জমিদার বাড়িতে প্রবেশের জন্য টিকেটের মূল্য প্রতি ১০টাকা।
মহেরা জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে ঘুরার মতো অনেক জায়গা আছে যা আপনি একদিনে ঘুরে শেষ করতে পারবেন না। তবেতার মধ্যে মহেরা জমিদার বাড়ি সবচেয়ে সুন্দর। এটি তিনটি স্থাপনা নিয়ে তৈরি। বাড়ির ভেতরের দিকে বিশাল খাঁচায় বিভিন্নরকম পাখি পালা হয়। তিনটি স্থাপনার প্রতিটাতে অসাধারণ কারুকার্য করা। দেখলেই মন ভরে যাবে।
যাতায়াত : টাঙ্গাইলের জমিদার বাড়ি দেখতে হলে খুব সকালে বাসা থেকে বের হতে হবে। কারণ যেতে প্রায় ৩-৫ ঘণ্টা লাগবে। মহাখালি থেকে ‘ঝটিকা সার্ভিস’ নামে বাস ছাড়ে। এছাড়া টাঙ্গাইল যাওয়ার আরও বেশ কিছু ভালো বাস আছে। মহেরা জমিদার বাড়ির বর্তমান নাম মহেরা পুলিশ ট্রেইনিং সেন্টার। ওখানে যেতে হলে নামতে হবে ‘নাটিয়া পাড়া’ বাস স্ট্যান্ড এ। সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মতো। নেমে একটা অটো রিকশা নিয়ে যেতে হবে। রিকশা করে সরাসরি মহেরা জমিদার বাড়িতে যাওয়া যাবে। ভাড়া ২০-৩০ টাকা। জমিদার বাড়ি ঢুকতে টিকেট কিনতে হবে, জন প্রতি ২০ টাকা।

উয়ারী-বটেশ্বর
ইতিহাস আপনার পছন্দ! আগ্রহ আছে প্রতœতাত্তি¡ক বিষয়ে তবে ঘুরে আসতে পারেন উয়ারী-বটেশ্বর থেকে। নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ। অসম রাজার গড় নামে এটি সমাধিক পরিচিত। এখানে প্রায় তিন হাজার পূর্বের প্রাচীন শিলালিপি মূদ্রাসহ সভ্যতার অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে। এখানে পর্যটকদের জন্য রেস্ট হাউজ রয়েছ। এখানে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে তাম্র প্রসার যুগ, আদি-ঐতিহাসিক যুগ, প্রাক মধ্যযুগের সভ্যতার নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়। মাটির একটি ঘরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি হয়েছে একটি প্রতœসংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার। আর এই সংগ্রহশালায় রক্ষিত আছে খ্রিষ্টপূর্ব সময়ের মূল্যবান কিছু প্রতœতাত্তি¡ক নিদর্শন।
যেভাবে যাবেন :
গুলিস্থান ও মহাখালী থেকে চলনবিল বাসে সরাসরি যেতে পারেন নরসিংদি জেলা শহরে। এরপর টার্মিনাল থেকেই পাবেন উয়ারী-বটেশ্বও যাবার বাস।
কালবন বিহার, কুমিল্লা
কালবন বৌদ্ধবিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতির অসংখ্য এবং চমৎকার সব প্রাচীনস্থাপনাগুলোর একটি। দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।
যেভাবে যাবেন
প্রথমে কুমিল্লা শহরে যাবেন। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কি.মি দূরে কোট বাড়িতে শালবন বিহার অবস্থিত। ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত বাসে যেতে ২-৩ঘণ্টা লাগবে। কুমিল্লা এসে চলে যান টমটম ব্রীজ সিএনজি স্ট্যান্ডে। সেখানে সিএনজি করে কোটবাড়িতে এবং সেখান থেকে অটোরিকশা বা রিকশায় করে যেতে হবে শালবন বিহার।

বেলাই বিল
গাজীপুরের বেলাইবিল মনোরম একটি জায়গা। চেলাই নদীর সাথেই বেলাই বিল। এখানে ইঞ্জিনচালিত আর ডিঙ্গি নৌকা দুটোই পাওয়া যায়। যেটাতে ভালো লাগে উঠে পড়–ন। সারাদিনের জন্য ভাড়া করে নিতে পারেন এবং ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিলে নিজেরাই চালিয়ে ঘুরতে পারেন। বিকেলে এই বিলের চারপাশে অপূর্ব দৃশ্য তৈরি হয়, সাথে শাপলার ছড়াছড়ি। শুধু চারিদিকে তাকিয়ে থাকবেন। আমার কিছুক্ষণ পরপরই বাতাসের ঝাপটা লাগবে গায়ে। বেশি সময় নিয়ে গেলে অবশ্যই খাবার নিয়ে যাবেন।
যেভাবে যাবেন
গাজীপুর সদও পর্যন্ত যাওয়ার পর, সেখান নেমে টেম্পুতে কানাইয়া বাজার যাবেন। ভাড়া নিবে ১০ টাকা। রিকশাতেও যেতে পারেন। কানাইয়া বাজারে নেমেই সামনে ব্রিজ আছে, ব্রিজ পার হয়েই নদীতে বাধা নৌকা ঠিক করে উঠে পড়–ন। এছাড়াও নদীর পাশে ‘ভাওয়ালপরগণা’ (শ্মশান ঘাটবা শ্মশান বাড়ি) আছে। চাইলে নদীর পাশেই এই শ্মশান বাড়িটি দেখে আসতে পারেন।
আড়াইহাজার মেঘনার চর
ঢাকার কাছে আড়াইহাজার চর এলাকা অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে খুব অল্প সময়ে। বিস্তীর্ণ এলাকায় এরকম মনোরম পরিবেশ আর কোথাও নেই শহরের আশেপাশে! সারাদিনের জন্য ঘরতে আসতে পারেন এখানে। নদীর তীরে ট্রলারে সন্ধ্যার সময়টা কাটাতে পারেন। ঢাকার কাছে মেঘনা নদীর মাঝখানে এই বিশাল বালির চর। তার মধ্যে অর্ধেকের বেশিই কাশবন। এখানে বালি অনেক শক্ত তাই কোনো চোরাবালির ভয় নেই। ভাটার সময় এখানে ঘুরতে যাওয়া বেশি সুবিধার। এ সময় ১০-১৫ ফিট বালির চরথাকে। দেখতে পারবেন কাশবন, খোলা আকাশে পাখির মেলা আর মাঝে মাঝে ট্রলার আর জাহাজের শব্দ।
যেভাবে যাবেন
প্রথমে গুলিস্থান থেকে দোয়েল বা স্বদেশ পরিবহন এ মদনপুর যাবেন। ভাড়া নিবে ৪৫ টাকা। সেখানে নেমে আড়াইহাজার এর জন্য সিএনজি নেবেন। ভাড়া নিবে ৫০ টাকা। যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়া এবং ট্রলারের খরচ মিলিয়ে মোটামুটি জ্জ জনের জন্য ৭০০-১০০০ টাকা খরচ হতে পারে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক
বিস্তৃত শালবনের ভেতর প্রাচীর দিয়ে তৈরি এই পাক। ভেতরে আছে সব পিচঢালা সড়ক। দু’দিনে নানা প্রজাতির গাছ দিয়ে বিস্তৃত। থাইল্যান্ডের সাফারি ওয়ার্ল্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এশিয়ার সর্ববৃহত্তম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক বাংলাদেশের গাজীপুরে নির্মিত হয়েছে। ২ ইঞ্চি কাচের দেয়াল দিয়ে ঘেরা আছে হিংস্র বন্য পশুদের জায়গা। তাই আপনি তাদের কাছ থেকে দেখতে পারলেও ভয়ের কোনো কারণ নেই। তাছাড়া খুব সুন্দর ব্যবস্থায় তৈরি করা হয়েছে এটি।
যেভাবে যাবেন
গাজীপুরে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত বাঘের বাজার। সেখান থেকে আরও সামনে কিছু দূর থেকে থেকে দেখা যাবে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের গেইট। সেটি পার করে দেখতে পাবেন বাঘ, সিংহ, বাজ পাখি বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর ভাস্কর্য।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর কিংবা ঝটকা
ঢাকার কাছে সরিষা ফুলের রাজ্য মানিকনগর। কয়েকজন মিলে একটি গাড়ি ভাড়া করে নিন। তাহলে ইচ্ছে মতো ভালো লাগা যে-কোনো জায়গাতেই থেমে যেতে পারবেন।
যেভাবে যাবেন
ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে সিঙ্গাইরের রাস্তা ধরে কিছুদূর গেলে ধলেশ্বরী ব্রিজপেরিয়ে বিন্নাডিঙ্গি বাজার থেকে বাঁয়ের সড়কে আরও সামনে মানিকনগর। সেখানে সড়কের দুইপাশে সরিষা খেত। সেখান থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা যমুনা পরিবহনে চেপে বসা। ৯০ টাকা ভাড়া আর দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টার বিনিময়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মৈনট ঘাট। ফেরার সময় একই বাসে আবার ঢাকা চলে আসবেন। মৈনট থেকে ঢাকার উদ্দেশে শেষ বাসটি ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৬টায়। চাইলে লক্ষীপ্রসাদ নামক স্থানে নেমে পোদ্দারবাড়ি নাম পুরোনো বাড়িটিও দেখে নিতে পারেন। আর জজবাড়ি, উকিলবাড়ি,কোকিলপ্যারি দালান, খেলারাম দাতার বাড়ি যাকে স্থানীয়ভাবে আন্ধার কোঠা বলা হয়, এসব দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চাইলে মাঝিরকান্দার আগে কলাকোপ নামক স্থানেই নামতে হবে।

হাজীগঞ্জ জলদূর্গ
নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া হয়ে ঈসা খান রোড দিয়ে হাজীগঞ্জের পথে ঢুকেই বাম দিকে হাজীগঞ্জ দূর্গ। ভিতরে হাজীগঞ্জ দূর্গের রিয়াটা গোলাকার। কর্তৃপক্ষের অযতœ আর অবহেলায় হাজীগঞ্জ দূর্গটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। হাজীগঞ্জ জল দূর্গ দেখা শেষ করে নৌকায় ধলেশ্বরী নদী পার হয়ে। যেতে হবে সোনাকান্দা জলদূর্গ।
যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাসে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া নেমে রিকশায় হাজীগঞ্জ জলদূর্গ।

ইন্দ্রাকপুর কেল্লা
ডবশাল বিক্রমপুর মুঘলদের করতলে রাখতে এবং বিদেশি সৈন্যদের হাত থেকে সুবে-বাংলার রাজধানী ঢাকাকে রক্ষার জন্য মুন্সীগঞ্জের উন্দ্রাকপুর নামকস্থানে মুঘল সুবেদার মীর জুলমা ১৬৬০ খ্রি. একটি দূর্গ বা কেল্লা নির্মাণ করেন। এটিই বর্তমানে ইন্দ্রাকপুর কেল্লা নামে পরিচিত।
যেভাবে যাবেন
নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ মোক্তারপুর ব্রীজ পার হয়েই হাতের বামের দিকে রাস্তা দিয়ে গেলেই যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দিবে ইদ্রাকপুর কেল্লা।
এছাড়া রয়েছে-ইছামতি নদী, জিন্দাপার্কÑনারায়ণগঞ্জ, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান, মধুপুরগড়, সাতগ্রাম জমিদার বাড়ি, বিশনন্দী ফেরিঘাট ও মেঘনা নদী, গোপালদী জমিদার বাড়ি, কালাপাহারিয়া ইউনিয়ন ও চর অঞ্চল, ঐতিহ্যবাহী জজ বাড়ি, কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি, গান্ধী মাঠ, আর এন হাউজ, জগবন্ধু সাহা হাউস, খেলারাম দাতার বাড়ি, ব্রজ নিকেতন, জপমালা রানীর গীর্জাসহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থান।
বেড়াতে যেতে চাইলে কোথায় যেতে চান সেটা ঠিক করে নিন প্রথমেই। আগে থেকেই ব্যাগ গুছিয়ে নিলে ছুটির দিন অথবা পরদিনই রওনা হয়ে যেতে পারবেন। ব্যাগে সব প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো মনে করে নিয়ে নিন। একটা লিস্ট মেনটেইন করতে পারেন।
সব প্রস্তুতি শেষ। এবার রওনা হয়ে যান। ব্যাগ ও সুকেস হাত ছাড়া করবেন না। সঙ্গে ছোট বাচ্চা গেলে হাত ধরে রাখুন সর্বদা। না হলে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যেতে পারে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *