জেলার খবরময়মনসিংহ

নান্দাইলে ঘুষ বাণিজ্যের ‘সম্রাট’এলজিইডির শফিকুল ইসলাম

নান্দাইল (প্রতিনিধি) খাইরুল ইসলাম

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা এলজিইডি অফিস যেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত টোল প্লাজায় পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ ঠিকাদার ও স্থানীয়দের। কোনো কাজ পেতে হলে কিংবা বিল তুলতে হলে ‘ট্যাক্স’ নামে ঘুষ না দিলে ফাইল নড়ে না—এ চিত্র দীর্ঘদিনের পুরোনো অভিযোগ।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী এক কর্মস্থলে তিন বছরের অধিক থাকতে পারে না। কিন্তু এই উপসহকারী প্রকৌশলী প্রায় পাঁচ বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক অঘোষিত সাম্রাজ্য। ঠিকাদারদের ভাষ্য—তার টেবিলে ফাইল উঠানো মানেই টাকা। গ্রামীণ সড়কের পিচ ঢালাইসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের ক্ষেত্রে বহুদিন ধরে ঠিকাদারদের জিম্মি করে রেখেছেন তিনি। কাজ শেষে বিল পরিশোধের প্রয়োজনীয়তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে প্রকাশ্যেই ঘুষ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি শফিকুল ইসলামের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর নান্দাইলজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়—এক ঠিকাদারের জমা দেওয়া ফাইলের ভেতর থেকে তিনি টাকার বান্ডিল বের করে কোনো কথা না বলেই ড্রয়ারে রেখে দিচ্ছেন। কাজের মান, নথিপত্র বা নিয়মনীতি সেখানে গুরুত্বহীন; টাকাই যেন তার কাছে ‘ফাইনাল পারমিশন’।

ভিডিওটি প্রকাশের পর এলজিইডির সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—এ ধরনের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি প্রশাসনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বছরের পর বছর তার দৌরাত্ম্য চলতে থাকার পরও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

ভিডিও সম্পর্কে জানতে শফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল মালেক বিশ্বাস বলেন,“ভিডিওটি দেখেছি। শফিকুল ইসলামের দাবি করেছে, এটি তিন বছর আগের ভিডিও। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানাবো তারা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। ”

ময়মনসিংহ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সামলান রহমান রাসেল জানান,
“অভিযোগ এবং টাকা নেওয়ার ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *