সর্বশেষ

শরতের রঙে সাজ পোষাকে…

শরতের রঙে সাজ পোষাকে…
শরতের প্রকৃতির প্রভাব ফেলে আমাদের মনেও। আমাদেরও তখন ইচ্ছে করে শরতের সাজ পোশাকে সেজে উঠতে। ছয়টি ঋতু ভিন্নরূপে উপস্থিত হয়, প্রতিটির আলাদা আবেদনও রয়েছে। আসলে ঋতুভেদে কাপড়চোপড়ে পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তন নির্ভর করে নিজস্ব রুচি ও চিন্তার উপর। এখন যেহেতু বাইরে রোদ-বৃষ্টির খেলা, তাই সাজের ক্ষেত্রে উপকরণটি অবশ্যই যেন পানিরোধক হয়। শরতের আসল আমেজ তো গ্রামে-গঞ্জে। এই ঋতুতে আপনার শার্টের যে ধরনে আপনি কম্ফোর্ট ফিল করতে পারেন…

ছবি সৌজনে: হাল ফ্যাশন (শার্টটি ১০০ ভাগ সুতি কাপড় দিয়ে তৈরি, এই সময়ে স্টাইল ও আরামের জন্য অনন্য। কালার রয়েছে ৮ টি।

দাম: ৮০০ এ সময়ে ২০% ডিসকাউন্টে মাত্র ৬৪০ টাকা। কুরিয়ার চার্জ, সারা বাংলাদেশ ৬০ টাকা

যোগাযোগ: 01928710550 Whatsapp

মেয়েদের এ সময়ে দিনের বেলা গরমে গাঢ় সাজ যেমন মানানসই নয়, তেমনি অন্যদের চোখেও তা দৃষ্টিকটু লাগে। তাই সব মিলিয়ে সাজসজ্জায় স্নিগ্ধভাব থাকা চাই। এজন্য হালকা মেকআপই ভালো। হালকা মেকআপের এই লুকে আপনি হয়ে উঠবেন অসাধারণ। কিযারা একটু বেশি রঙিনভাবে সাজতে চান তারা পোশাকের রঙের বিপরীত রংও বেছে নিতে পারেন। এটি চোখের কাজল, শ্যাডো, লিপস্টিক সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য স্কিন কালার লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট ভালো করে একে নিন।ঠোঁটে স্কিন কালার লিপস্টিক দিন।সামান্য সিমারি গোল্ডেন লিপগ্লস দিতে পারেন। দিনের বেলায় ফাউন্ডেশন না লাগিয়ে হালকা কোনো ফেস পাউডার লাগিয়ে দেখতে পারেন। এতে ত্বক অনেক বেশি মসৃণ ও সুন্দর দেখাবে। আবার যদি আপনি ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতেই চান, ম্যাটিফায়িং ফাউন্ডেশন লাগান। এবার পোশাকের সঙ্গে মেকআপে মিল রেখে লাইট-ব্রাউন কালারের আইশ্যাডো লাগিয়ে নিলে অনেক বেশি ন্যাচারাল দেখাবে।
রাতের বেলায় একটু গাঢ় করেই চোখটা সাজাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মেরুন, কফি, সবুজ, নীলচে শ্যাডগুলো ব্যবহার করতে পারেন। দিনের সাজে চোখের নিচের পাতায় আইলাইনার অথবা মাশকারা না লাগানোই ভালো। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে পারেন রঙিন কাজল। নীল, সবুজ, গোলাপি, লাল কাজলের রেখা টেনে নিতে পারেন চোখের কোণে। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কপালে টিপ দিতে পারেন।
এ সময় প্রতিদিন চুল ধুতে হবে। যারা বাইরে বেশি কাজ করেন, তারা সম্ভব হলে প্রতিদিনই চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে কন্ডিশনার লাগান। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মাথায় গরম তেল ম্যাসেজ করুন। নারকেল তেলই চুলের জন্য সবচেয়ে ভালো। সারা রাত লাগিয়ে রেখে পরদিন শ্যাম্পু করুন। এতে ঘুমও ভালো হবে। তেলের সঙ্গে যেকোনো প্রোটিনসমৃদ্ধ প্যাকও লাগাতে পারেন।
চুলের সাজে ভালো লাগবে খোঁপা, বেণি সবকিছুই। তবে শরতে খোলা চুলের সৌন্দর্যই আলাদা। বেণি, খোঁপা কিংবা খোলা যেভাবেই চুল সাজিয়ে নিন না কেন, চুলে গুঁজে দিন শরতের কোনো ফুল। চুল খোলা রেখে কানের পাশে শুধু একটি দোলনচাঁদা গুঁজে দিলেও দেখতে অসাধারণ লাগবে। কিংবা একটা লম্বা কাশফুল ছিঁড়েও যদি খোঁপায় পেঁচিয়ে দেন তাতেও ফুটে উঠবে শরতের সৌন্দর্য। টিনএজাররা চুলগুলো একটু টেনে পনিটেল করে নিলে বেশ ভালো লাগবে।

ছবি সৌজন্যে: রঙ


এ সময় যারা শাড়ি পরতে চান তারা বেছে নিন হালকা রঙের শাড়িগুলো। ফিকে নীল শাড়িতে জরিপাড় দেয়া, চাঁপাফুল রঙ, ধানি রঙ, সাদা জমিনে বুটি তোলা জামদানি শাড়ি এবং এর সঙ্গে ম্যাচিং ব্লাউজ। ব্লাউজের হাতা থ্রি কোয়ার্টার হলে ভালো মানাবে। যারা সালোয়ার-কামিজ পরবেন তারাও এরকম হালকা রঙগুলোই বেছে নিতে পারেন। একেক ঋতুতে একেক রঙের পোশাকের প্রাধান্য থাকে। শরৎকালের নীল রঙ তো রয়েছেই, এছাড়া দিনের বেলা সাদা, অফহোয়াইট, স্কাই, ব্লু, পেস্ট কালারসহ অন্য উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরলে দারুণ লাগবে। তবে রাতের পার্টিতে যে কোনো রঙের পোশাক পরা যেতে পারে। তবে শরতের তাল পাকা গরমে পোশাকে সুতির কোনো বিকল্প নেই। এ সময় তাই বেছে নিতে পারেন অ্যান্ডিকটন, তাঁত, ভয়েল প্রভৃতি। একটু গর্জিয়াস পোশাক চাইলে সিল্ক, জয়সিল্ক বা মসলিন ভালো লাগবে।
শরতের সাজ পোশাকের সঙ্গে, বিশেষ করে নীল রঙের পোশাকের সঙ্গে মুক্তার গহনা অনেক বেশি মাধুর্য এনে দেয়। ভালো লাগবে মেটাল, কাচ, মাটি, পুঁতি, বিডসের গহনাও। তবে অনেক বেশি গহনা না পরে বরং গলায় একটা লম্বা মালা, কানে ছোট দুল অথবা টপ পরুন। এতেই ফুটে উঠবে শরতের স্নিগ্ধতা।
এই মৌসুমে দিনের বেলা যতই নিরাপদ জায়গায় থাকুন না কেন, ভারী সোনার গয়না পরা থেকে দূরে থাকুন। অবশ্যই সুগন্ধি ব্যবহার করবেন। এই গরমে ঢাউস ব্যাগ না নিয়ে ছোট মানানসই ব্যাগে সানগ্লাস, কলম, টিস্যু ইত্যাদি দরকারি জিনিস ভরে নিতে পারেন।
উচ্চতা যাদের বেশি তারা পরবেন নিচু স্যান্ডেল বা সিস্নপার। আর উচ্চতা কম হলে অবশ্যই হিলওয়ালা জুতা পরবেন। জুতার বেলায়ও লক্ষ্য রাখবেন তা যেন জমকালো পুঁতি অথবা জরি বসানো না হয়। এ শরতে হালকা সাজেই আপনি হয়ে উঠবেন পরিপাটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *