ইতিহাস ও ঐতিহ্যে নওগাঁ…

ইতিহাস ও ঐতিহ্যে নওগাঁ…
নওগাঁ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি জেলা। নওগাঁ জেলা বরেন্দ্রীয় অংশ। এর উত্তরে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর, দক্ষিণে নাটোর ও রাজশাহী জেলা, পূর্বে জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা এবং পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও ভারতের মালদহ। রাজশাহী জেলার অধীনে নওগাঁ মহকুমা গঠিত হয় ১৮৭৭ সালে এবং মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৪ সালে। পৌরসভা গঠিত হয় ১৯৬৩ সালে। জেলার এগারোটি উপজেলার মধ্যে নিয়ামতপুর সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে ছোট উপজেলা বদলগাছী।এ জেলায় সাঁওতাল, ওরাওঁ, মুন্ডা প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। আত্রাই, পুনর্ভবা, ছোট যমুনা, নাগর উলেখযোগ্য জলাশয়।দেশের সবচে বড় চালের মোকাম নওগাঁ। বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে নওগাঁ জেলার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীন ইতিহাস, সভ্যতা ও স্থাপত্যের প্রতি যাদের আগ্রহ আছে তাদের জন্য নওগাঁ জেলা বেছে নেওয়াটা হবে সবচেয়ে ভাল।বরেন্দ্রের উচুঁ-ঢালু লালমাটির পথ ধরে চলতে চলতে দেখা মিলবে মৌর্য, গুপ্ত ও পাল থেকে শুরু করে সুলতানী বা মুঘল আমলের প্রতœস্থান।এই বরষা মৌসুমিতে ঘুরে আসুন উত্তরবঙ্গের এই জেলা থেকে।
কবিগুরুর পতিসর কাছারি বাড়ি
আমাদের ছোট ছোট নদী/ চলে বাঁকে বাঁকে/ বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে’- এই কবিতাটি বিশ্বকবি পতিসরে তার কাছারি বাড়িতে এসে বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আঁকা-বাঁকা নাগর নদীকে নিয়ে লিখেছিলেন। প্রায় এক বিঘা জমির ওপর অবস্থিত কবির এই দোতলা কাছারি বাড়ি। পতিসরের এই কাছারি বাড়িটি অনেকটাই শিলাইদহ ও শাহজাদপুরের কুঠিবাড়ির অনুরুপ।এখানে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে কবির ব্যবহূত বিভিন্ন আসবাবপত্র। ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বকবির পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর এই কালিগ্রাম পরগনাকে ক্রয় করে ঠাকুর পরিবারের জমিদারীর অংশে অর্ন্তভুক্ত করেন।এরপর বিশ্বকবি ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জানুয়ারি পতিসরের কাছারি বাড়িতে জমিদারী দেখাশোনা ও খাজনা আদায় করতে আসেন। সর্বশেষ ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই কবি এখানে শেষবারের মতো এসেছিলেন।রবীন্দ্রনাথ পরগণার উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার দিকে বেশি গুরুত্ব দেন। এ মানুষগুলোর শিক্ষার জন্য তিনি গ্রামে গ্রামে অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেন। কালীগ্রাম পরগনার প্রজাদের শিক্ষায় আলোকিত করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে তিনটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নোবেল পুরস্কারের সমুদয় অর্থ কালীগ্রাম পরগনার উন্নয়নে কাজে লাগান। পতিসরে তিনি কালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউট স্থাপন করেন।পতিসর রবীন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় ও রাতোয়াল রথীন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় আজও স্মৃতি ধরে রেখেছে .১৯৯১ সাল থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত অসংখ্য কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস ও চিঠিপত্র লিখেছেন।জেলা সদর হতে দূরত্ব ৪৮ কিঃ মিঃ। আত্রাই উপজেলায় অবস্থিত।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার
বিশ্ব ঐতিহ্য নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার প্রায় ৬৮ একর জমির ওপর অবস্থিত পাহাড়পুর বিহার বা সোমপুর বিহার। এ অঞ্চলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রতœস্থানটির নাম হলো পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার।সোমপুর বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিহার। মহাবিহারটি পাল বংশীয় দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল (৭৭০-৮১০ খ্রিঃ) কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল। প্রায় ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল। এটি ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ৩২২তম হিসেবে স্থান পায়। যুগযুগ ধরে ধ্বংসাবশেষে ধুলাবালি জমে এক বিশালা উঁচু ঢিবিতে পরিণত হয়েছে। সম্ভবত এভাবেই স্থানের নাম হয় পাহাড়পুর।১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কারের পর ১৯২৩ হতে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত সময়ের খননের ফলে বিভিন্ন প্রস্তর লিপি, ভাস্কর্য, পোড়ামাটির ফলক, ইট, বিভিন্ন ধাতব দ্রবাদি, রৌপ্য মুদ্রা, মাটির বিভিন্ন পাত্রসহ প্রচুর প্রতœ নিদশর্ন পাওয়া যায় যা
বর্তমানে বিহারের যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।লিপিযুক্ত মাটির সিলের পাঠোদ্ধার হতে জানা যায়, বিহারের প্রকৃত নাম ছিল সোমপুর মহাবিহার। বিহারের উত্তর দিকে মূল প্রবেশপথ। উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ৯২২ ফুট এবং পূর্ব ও পশ্চিমে ৯১৯ফুট বিস্তৃত। এই বিহারের চারদিকে ১৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১৩ ফুট প্রস্থের ১৭৭টি ভিক্ষু কক্ষ উত‹ীর্ণ হয়েছে। বিহারের আঙ্গিনার কেন্দ্রস্থলে ক্রমাকৃতি ও ধাপে ধাপে নির্মিত একটি সুউচ্চ মন্দির রয়েছে। নবম শতাব্দীর শেষে কতিপয় বিদেশি রাজাগণ কর্তৃক পাল সাম্রাজ্য বারবার আক্রান্ত হয়। এভাবে পুনঃ পুনঃ আক্রমণের ফলে সোমপুর বিহার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিহারে ১২৫নং কক্ষে মাটির পাত্রে খলিফা হারুন-অর-রশিদের শাসনামলের রৌপ্য মুদ্রা পাওয়া যায়। কোন সাধক বা ধর্ম প্রচারক মুদ্রাগুলি এখানে এনেছিলেন বলে অনুমান করা হয়। পিরামিড আকৃতির এ মঠের উচ্চতা ৭০ ফুট। ১টি শূন্যগর্ভ চতুস্কোণ কক্ষকে কেন্দ্র করে এর অন্যান্য সংযোজনীসমূহ গড়ে ওঠেছে। সমগ্র বিহারটি প্রাচীর বেষ্টিত।নওগাঁ মূল শহর থেকে উত্তর দিকে ৩৪ কিলোমিটার দূরে বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত এই বিশ্ব ঐতিহ্যটি। বিহারটির পাশে রাত্রি যাপনের জন্য নেই কোন ভালো আবাসিকের ব্যবস্থা। পিকনিক ¯পটের জন্য রয়েছে মনোরম পরিবেশ।
কুসুম্বা মসজিদ
নওগাঁ সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামে অবস্থিত দেশের উলেখযোগ্য প্রতœতাত্তি¡ক নিদর্শন এই কুসুম্বা মসজিদ। বাংলাদেশের পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত ছবিটি নওগাঁর ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদের। ১৫৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রথম গিয়াস উদ্দিন শাহ এর রাজত্বকালে জনৈক সোলায়মান ধুসর পাথর দ্বারা মসজিদটি নির্মাণ করেন। ১৮৮৭ সালের ভ‚মিক¤েপ মসজিদটি মারাÍক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৬৪ সালে মসজিদটি শেষবারের মতো সংস্কার করা হয়। ১৮৯৮ সালের এক ভয়াবহ ভ‚মিক¤েপ মসজিদটির একটি গম্বুজ ধসে পড়ে। ১৯৬৪ সালে সেই গম্বুজটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়।প্রতœতত্ত¡ অধিদপ্তর কুসুম্বা মসজিদ অধিগ্রহণ করে। এর মিহরাবের উপরে সুলতান আলা-উদ-দীন হোসাইন শাহ এর নাম লিপিবদ্ধ থাকায় ধারনা করা হয় তাঁর শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত হয়। এই মসজিদটি চতুস্কোণ বিশিষ্ট কালো ও ধুসর বর্ণের পাথর এবং পোড়া মাটির ইষ্টক
দ্বারা নির্মিত। জ্যামিতিক নক্সার আদলে পোড়ামাটির সুদৃশ্য কারুকাজ খচিত মাটির টালি, মিহরাবে বিভিন্ন ফুল, লতা-পাতা ঝুলন্ত শিকল ও মনোরম শৈল্পিক কারুকাজ যা মুসলিম স্থাপত্য কলার অপূর্ব সমাহার। ইটের তৈরী এই মসজিদের দেওয়াল গুলো বাইরে ও ভিতরে পাথর দ্বারা আবৃত। মসজিদের চার কোনে ৪ টি অষ্টকোনাকার বুরুজ বা টারেট আছে। মসজিদের অভ্যন্তরে দুটি প্রসস্থ স্তম্ভ আছে। এই দুটি স্তম্ভ ও চার পাশের দেয়ালের উপর মসজিদের ৬ টি গম্বুজ আছে। মসজিদটির সম্মূখে ২৫.৮৩ একের আয়তনের একটি বিশাল জলাশয় রয়েছে। মসজিদের অভ্যন্তরে উত্তর-পশ্চিম কোনে স্তম্ভের উপর একটি উচু আসন রয়েছে। এই আসনে বসেই কাজী/বিচারক বিচার কার্য পরিচালনা করতেন বলে ধারনা করা হয়।
জগদ্দল বিহার
এটি একটি প্রাচীন কীর্তি। বর্তমানে স্থানীয় জনগণ এটাকে বটকৃষ্ণ রায় নামক একজন জমিদারের বাড়ীর ধ্বংসাবশেষ বলে মনে করে।নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় অবস্থিত। জেলা সদর হতে দূরত্ব ৫৪ কিঃ মিঃ।
ভীমের পান্টি
স্তম্ভটি পাল রাজা নারায়ন পালের সময় নির্মিত।ধামইরহাট উপজেলায় অবস্থিত। জেলা সদর হতে দূরত্ব ৬৭ কিঃ মিঃ।

মাহিসন্তোষ
এটি সুলতান রুকুন উদ্দিন বারবাক শাহ এর আমলে প্রধান শহর ছিল। এখানে পুরাতন মসজিদ ও রাজপুরীর ধ্বংসস্তুপ বিদ্যমান।তাছাড়া এটি ছিল সুলতানী আমলের বারবকাবাদ প্রশাসনিক এলাকার টাকশাল। এ ঐতিহাসিক প্রতœস্থলটি জেলার মধ্যে অন্যতম। ধামইরহাট উপজেলায় অবস্থিত।
বলিহার রাজবাড়ি
নওগাঁ জেলা শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার পশ্চিমে বলিহার ইউনিয়নের কুড়মইল মৌজায় বলিহার রাজবাড়ি অবস্থিত। নওগার পুরাতন জমিদারের মধ্যে যারা মুসলিম পর্বে জায়গীর লাভ করেছিল বলিহারের জমিদার তাদের মধ্যে একজন।১৮২৩ খৃষ্টাব্দে নির্মিত রাজ- রাজেশ্বরী দেবীর মন্দির ও নয় চাকার রথ এর জন্য প্রসিদ্ধ।বলিহার রাজবাড়ির সম্মুখের কারুকার্যময় অলংকরণ বিশিষ্ট মন্দির ও বিশাল দ্বিতল রাজবাড়ির অংশ দর্শকদের নিকট আজও আকর্ষণীয়।
জমিদার বাড়ী
মেইনরোড দিয়ে যেতে হবে এবং ইহা সরকারি কলেজ সংলগ্ন অবস্থিত(নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলা) ।বর্তমানে জমিদার বাড়ীর মূল ফটোক এবং একাংশ জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজের স¤পত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ধীবর দীঘি (দিব্যক জয় স্তম্ভ)
পতিœতলা উপজেলার দর্শনীয় স্থান ধীবর দীঘি। এই দীঘির মাঝখানে আছে দিব্যক বিজয় স্তম্ভ। দ্বাদশ শতকে পাল শাসক দ্বিতীয় মহীপালকে যুদ্ধে পরাজিত করে কৈবর্ত রাজা দিব্যক বিজয়ের নিদর্শন হিসেবে এই দীঘি খনন করে এর মাঝখানে বিজয়স্তম্ভ স্থাপন করেন। পাথরের তৈরি স্তম্ভটির উচ্চতা ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি। পানির নিচের অংশ ২৫ ফুট ৫ইঞ্চি। দীঘির মাঝখানে আজো অক্ষত অবস্থায় মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে ধীবর দীঘির বিজয়স্তম্ভ। আটকোণ বিশিষ্ট গ্রানাইট পাথরের এত বড় স্তম্ভ বাংলাদেশে বিরল।
আলতাদিঘী
আলতাদীঘি প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকেও অত্যন্ত সমৃদ্ধ।ধামইরহাট উপজেলায় অবস্থিত। আলতাদীঘির অদূরেই রয়েছে পাল শাসনামলে নির্মিত জগদ্দল বৌদ্ধ বিহার। সেখানে বিষ্ণু, শিব ও কারুকার্যখচিত কষ্টিপাথরের নারীর মুখমণ্ডলের প্রতিকৃতি দেখতে পাওয়া যায়। দীঘির পাশেই রয়েছে কয়েকটি আদিবাসী গোষ্ঠীর বসবাস। দীঘির উত্তর পাড় সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশের সীমানা।শীতের সময় অতিথি পাখির আগমন ঘটে। আলতাদীঘির নামকরণেও রয়েছে ঐতিহাসিক মজার ঘটনা।
জবাইবিল
নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায় জবাই বিল মৎস্য উৎপাদনের একটি বড় উৎস। এটি একটি জলমহাল। বিলটি বর্ষা মৌসুমে অত্যন্ত সুন্দর আকার ধারণ করে এবং বহু পর্যটক আসে।
দিঘলীর বিল (তালতলী)
দিঘলীর বিল নাটোরের চলন বিলের সাথেও সংযুক্ত। স্থানীয়ভাবে সবাই একে তালতলীর বিল নামেই চেনে। শুকনা মৌসুমে প্রচুর ধান হয় বিলে, তখন এর সৌন্দর্য আবার আরেকরকম। তখন দিগন্তবিস্তৃত সবুজ ভেলভেট বাতাসে দোলে। এখন যেমন দেখছেন চারদিকে নীলের জলরাশি, তখন কিন্তু যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই শুধু কচি কচি ধানগাছের সৌন্দর্য।বর্ষা মৌসুমে এখানে বিলের অথৈ জলরাশি মন কেড়ে নেয় এখান আসা অতিথিদের মন।
হাপানিয়া খেয়া ঘাট
সাপাহার উপজেলার দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্য হাপানিয়া খেয়াঘাট অন্যতম। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদাহ জেলার মধ্যদিয়ে পূর্নভবা নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এ নদী বিভক্ত করেছে বাংলাদেশ এবং ভারতকে। হাপানিয়া ঘাট নামক স্থানে এ নদীটির উপর একটি ব্রিজ তৈরী করা হয়েছে।যাতে করে এখান কার অপরুপ সৌন্দর্য পর্যটকদের মন কিছুক্ষনের জন্য হলেও প্রশান্ত করে দেয়।
ঠাকুর মান্দা মন্দির
তথ্য সুত্রে জানা যায় যে, নাটোরের ছোট রাজা নামীয় রাজ তন্ত্রের সময়ে এই মন্দিরটি এবং বগুড়া জেলার মা ভবানী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জানাযায় যে এটি একটি জাগ্রত মন্দির, প্রচলিত রয়েছে যে এই মন্দিরে মানত করে অনেক লোকের আশা-আকাঙ্খা পূর্ন হয় এবং অতীতে অনেক অন্ধ জনেরও চোখ ভালো হয়েছে। বর্তমানে মহানবমী (বাসন্তী) পূজার সময় সেখানে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়। জাগ্রত মন্দিরের কারনে এই মন্দিরটির নাম শ্রী শ্রী রঘুনাথ জিউ মন্দির নামে অভিহিত আছে।
নওগাঁ জেলা পরিষদ পার্ক
স্থানীয় ভাষ্যমতে বৃটিশ আমলে ১৯২০ সালে নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র নওগাঁ জেলা পরিষদ পার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয়।পার্কের ভিতরে ১.২০ একর বিশিষ্ট একটি পুকুর রয়েছে। যার চতুর্পার্শ্বে নারিকেল গাছ ও অন্যান্য গাছ রয়েছে।পার্কের ভিতরে একটি অফিস কক্ষও রয়েছে। পার্কের দক্ষিণ পূর্ব কোনে একটি ব্যয়ামাগার রয়েছে।পার্কের ভিতরে পূর্ব – উত্তর কোনে একটি পাঠাগার রয়েছে।
আব্দুল জলিল শিশু পার্ক ও স্মৃতিসৌধ
সাবেক বানিজ্য মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ স¤পাদক মরলহম আব্দুল জলিলের নাম অনুসারে এই র্পাকের নামকরণ করা হয়েছে আব্দুল জলিল শিশু র্পাক। এখানে আছে ট্রেন, বাপ¥ার কার সহ ১৮ টি রাইড।চালু হওয়ার অল্প কিছু দিনের মধ্যে র্পাকটি জেলা ও জেলার বাহিরের বিনোদন প্রেমিদের প্রাè কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে র্পাকটি ।
ডানা পার্ক
নওগাঁয় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ‘ডানা পার্ক’ নামে একটি বিনোদন কেন্দ্র। নওগাঁ পৌরসভা এলাকার ভবানীপুর গ্রামে প্রায় ১০ বিঘা পরিমাণ জায়গা জুড়ে এ পার্কটি নির্মান করা হয়েছে। এটি এখন বিনোদন প্রেমীদের কাছে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিয়ত বিনোদনের জন্য আসছেন বিনোদন প্রেমী।
শখের পলী
নওগাঁ-বগুড়া মহাসড়কের অতি সন্নিকটে মহাসড়কের পাশঘেষে গ্রাম বশিপুর। এই গ্রামে বেসরকারীভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য শখের পলী নামক বিনোদন পার্ক। প্রায় ২০ বিঘা জমি নিয়ে এই পলীতে নানা বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়া আরও যা দেখার রয়েছে। যেমন হলুদ বিহার,শালবন, দুবলহাটি জমিদার বাড়ি, শাহানাবাগ সিটি, ফারিস্তা পার্ক ও নিয়ামতপুরের ছাতড়া বিলসহ নওগাঁর বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থান।
ঐতিহ্যবাহী খাবার
প্যারা সন্দেশঃ-নওগাঁ শহরের কালীতলা পূজা মন্ডপের প্রধান গেট সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ছোট ছোট
কয়েকটি মিষ্টান্নের দোকান। যেখানে এই বিখ্যাত সন্দেশ পাওয়া যায় ।নওগাঁর প্যারা সন্দেশের রয়েছে
শত বছরের সুখ্যাতি।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সড়ক ও রেল উভয় পথেই যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।ঢাকা থেকে সড়কপথে নওগাঁ জেলার দূরত্ব ৩৯৭ কিলোমিটার। ঢাকার মহাখালী, কল্যানপুর এবং গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন কো¤পানির একাধিক বাস নওগাঁ জেলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তাছাড়া রেলপথে আসতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনথেকে আন্তঃনগর ট্রেন একতা, দ্রুতযান, লালমনি ও রংপুর এক্সপ্রেসে এসে সান্তাহার জংশন স্টেশনে নামতে হবে। অপরদিকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে ছেড়ে আসে।সান্তাহার থেকে রিকশা, অটোরিকশা ও সিএনজি করে নওগাঁয় আসা যায়।
কোথায় থাকবেন
নওগাঁ শহরে থাকার জন্য সাধারণ মানের কিছু আবাসিক হোটেল আছে। নওগাঁয় এরকম কয়েকটি হোটেল হলো-হোটেল ফারিয়াল, হোটেল অবকাশ, হোটেল রাজ, হোটেল যমুনা, হোটেল প্লাবণ, মুক্তির মোড়ে হোটেল আগমনী, হোটেল সরণি ও মোটেল চিসতীসহ নানা হোটেল ।
হাল বাংলার বেড়ানো এপিসোড নিয়মিত পেতে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

