বাবরের নামে মামলা! খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাদী প্রতারক!
একজন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কথা মনে পড়ে? জেল মেখে খাড়া করা চুল, চোখে চশমা। নিজ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর চেয়েও দাপটশালী ছিলেন। তার এক বিখ্যাত উক্তি, “উই আর লুকিং ফর শত্রুজ।” এবার নিশ্চয়ই মনে পড়েছে। বলছি লুৎফুজ্জামান বাবরের কথা। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি।
২০০৭ সালের তত্বাবধায়ক সরকার ও পরে পুরো আওয়ামী লীগ আমল জুড়েই ছিলেন কারাগারে। দুর্নীতি, হত্যাসহ অনেকগুলো মামলার আসামি ছিলেন। এরমধ্যে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা আর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলো আদালত। গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সব মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি।
অনেকগুলো মামলার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লুৎফুজ্জামান বাবরের নামে যে মামলাগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেয়া হয়েছিল এর বেশিরভাগই ছিল মিথ্যা ও বানোয়াট। এমন কিছু মামলা রয়েছে যার মধ্যে কয়েকটি মামলার কতিপয় কিছু বাদীর খোঁজ নিয়ে জানা যায় এদের অনেকেই প্রতারক। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা কোর্টেই কিছু দালাল রয়েছেন। যারা এডভোকেটদের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। কিংবা টাকার বিনিময়ে আসামীদের জামিন বা জেল বাড়াতে সহযোগিতা করেন। এমনই একটি তথ্য বের হয়ে এসেছে আমাদের অনুসন্ধানী এক রিপোর্টে…
লুৎফুজ্জুমান বাবরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার থাকার সময়ে অর্থ আত্মসাৎ-এর একটি মামলা করেন বাদী খালিয়াজুরী উপজেলার, বোয়ালী গ্রামের মুশফিকুর রহমান, তার পিতার নাম রউফ শেখ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি নেত্রকোণা কোর্টের একজন দালাল শ্রেণির লোক ছিলেন। যাকে তৎকালীন সময়ে নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী লীগ থেকে ৫০,০০০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছিল মামলার বাদী হওয়ার জন্য। উক্ত মামলাকে কেন্দ্র করে ১২ অক্টোবর ২০২১ বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের 2 বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেদিন মঙ্গলবার সকালে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। ওই বছরের ১২ই অগাস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
বিএনপি’র একজন নেতা ও সাবেক এই প্রভাবশালী মন্ত্রী বেশ কিছু মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। তার মধ্যে এই মামলাটি ছিল একেবারেই মিথ্যা এবং বানোয়াট, যে বাদী শুধুমাত্র ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকার জন্যই আদালতে মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায় বাবরের বিরুদ্ধে অনেক মামলা থাকলেও অর্থ আত্মসাতের কোনো মামলা ছিল না। আর এই মামলাটিই করেছিলেন লুৎফুজ্জুমান বাবরের নিজ নির্বাচনী এলাকার খালিয়াজুরি উপজেলার প্রতারক মুশফিকুর রহমান।
আওয়ামী লীগ সরকার তাকে এই মামলার বাদী হিসেবে পেয়ে ডামি নির্বাচনী ক্যান্ডিডেট বানিয়েও সম্মানিত করেছিল এই প্রতারককে। জানা যায়, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের পাতানো নির্বাচনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) মশাল মার্কায় নেত্রকোণা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরি) আসন থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে পেয়েছিলেন ৬৩৪ ভোট।
২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বাংলাদেশে সরকার গঠন করার পর যে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবলভাবে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন, তাদের মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবর ছিলেন অন্যতম। বিএনপি নেত্রী এবং ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের সাথে ঘনিষ্ঠতাই ছিল মি. বাবরের ক্ষমতাবান হয়ে উঠার মূল ভিত্তি ছিল বলে ব্যাপকভাবে ধারনা করা হয়। মি. বাবর শুরু থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, আর মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
খালিয়াজুরি উপজেলা ১ নং ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী সাইদুর বলেন, মুশফিকের বাড়ি আমার গ্রাম বোয়ালীতেই, সে মিন্টু নামে পরিচিত। ছোট বেলা থেকেই সে প্রতারক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সে আওয়ামী লীগ-এর ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে এলাকায় আসত। আওয়ামী লীগ নেত্রী পালিয়ে যাওয়ার পর সে আর এ অঞ্চলে আসে নি। আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালীন সময়ে অত্র এলাকার বিএনপি কর্মীসহ নিরীহ ব্যবসায়ীদের মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা নিতেন। তাই আওয়ামী লীগ যাওয়ার পর এখন আর এলাকায় আসে না সে।
খায়রুল নামে আরেক বিএনপি নেতা বলেন, সে যদি এলাকায় আসে, এলাকার অতি উৎসাহী লোকজন গণপিঠুনি দিতে পারে। এ নেতা আরও বলেন, প্রশাসনের উচিত উক্ত প্রতারক যেখানেই থাকেন না কেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবশ্যই মুশফিকুর রহমানকে গ্রেফতার করা উচিত।


https://shorturl.fm/Wtofi
https://shorturl.fm/f1B39